পশ্চিম সুন্দরবনে জেলের মৃত্যু 

আশিকুজ্জামান লিমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণকালে স্ট্রোকের কারণে হরিপদ মন্ডল (৬০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর জোড়া বয়ারসিং এলাকায় গত ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি জানা যায় শনিবার সন্ধ্যায়।

মৃত্যুর ঘটনায় সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তা এবং বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

স্থানীয় বনজীবীরা অভিযোগ করেন, “আমরা শুধু কাগজ ও পারমিটের বিনিময়ে কাজ করি, কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা নেই। অসুস্থ হলে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই।”

হরিপদ মন্ডল শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগরের সিংহড়তলী গ্রামের মৃত অনন্ত মন্ডলের ছেলে। তিনি ২০–২৫ বছর ধরে সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর হরিপদ মন্ডল ও সুকুমার মন্ডল বনবিভাগের কদমতলা স্টেশন থেকে পাস নিয়ে ছোট নৌকায় কাঁকড়া ধরার জন্য মালঞ্চ নদীর জোড়া বয়ারসিং এলাকায় প্রবেশ করেন। শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অন্যান্য জেলেদের সহযোগিতায় তার লাশ গাবুরায় নিয়ে আসা হয় এবং পরিবারের সহায়তায় রাতেই নীলডুমুর ঘাটে পৌঁছে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

হরিপদের সঙ্গী সুকুমার মন্ডল জানান, “কাঁকড়া ধরার সময় হঠাৎ হরিপদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশপাশের জেলেদের ডাক দিলে তারা নৌকা নিয়ে এগিয়ে আসেন। ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে জেলেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। হরিপদের প্রতিবেশী অবিনাশ চক্রবর্তী বলেন, “বনের মধ্যে বাঘ, জলদস্যুর ভয় তো আছেই। সরকারি অফিসগুলো যদি উদাসীন থাকে, আমাদের কী হবে?”

বন বিভাগের কদমতলা স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন জানান, “এই ঘটনায় আমি কিছুই জানি না।”

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বন বিভাগের উদাসীনতা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি বনভূমির ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা না হয়, অবৈধ কার্যক্রম রোধ করা কঠিন হয়ে যাবে এবং জেলেরা আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

ইএইচ