দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডে পর্যটকদের জন্য নানা সমস্যার কারণে আকর্ষণ কমছে। বড় যানবাহনের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে কাঁঠালতলী বাজারের প্রবেশ মুখে থাকা গাছ। এছাড়া জলপ্রপাতে ময়লা আবর্জনা রয়েছে এবং শিশু পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের পরিকল্পনার অভাবে দিন দিন পর্যটক সংখ্যা কমছে। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা মাধবকুণ্ডকে পর্যটক বান্ধব করার জন্য প্রকল্প গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কাঁঠাল তলী বাজারের প্রবেশ মুখে তিনটি বড় গাছের কারণে গাড়ি চলাচল খুবই দুর্ভোগজনক। স্থানীয়রা বলছেন, “এই গাছগুলো এখন এলাকার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সরকার ১৯৯৮ সালে মাধবকুণ্ডকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করলেও প্রায় তিন যুগ পার হওয়ার পরও পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো আজ রং মলিন এবং ক্ষয়প্রাপ্ত।
২০১২ সালে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে শিশু পর্যটকদের জন্য পশু-পাখির প্রদর্শনী স্থাপন করা হলেও অনেকেরই রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। বর্তমানে কিছু স্থাপনাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক রং করে পরিচালিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, “আগে জলপ্রপাতে সাঁতার কাটা যেত। এখন শুধুই পানি দেখা ছাড়া কোনো কার্যক্রম নেই। শিশুদের বিনোদনের জন্য কিছু নেই। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পার্কের মতো অতিরিক্ত কিছু গড়ে তুললে আনন্দ উপভোগ করা যেত এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পেত।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, কটেজ এলাকায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং শিশু পর্যটকদের জন্য নতুন বিনোদনমূলক স্থাপনা নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাধবকুণ্ডে রিটেনিং ওয়াল, ওয়াশব্লক নির্মাণ এবং রাস্তার টাইলস সংস্কারের কাজ চলছে। শিশুদের জন্য খেলাধুলার স্থান ও পার্কিং সুবিধা তৈরি করতে মাধছড়ার পাশে জমি অধিগ্রহণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ ভাগ-উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলীম উদ্দিন জানিয়েছেন, “শিশু পর্যটকদের জন্য দোলনা, পশু-পাখির প্রদর্শনী এবং অন্যান্য বিনোদনমূলক স্থাপনা বৃদ্ধি করা হবে।”
বড়লেখার সহকারী বন সংরক্ষক মো. রেজাউল মৃধা বলেন, “উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছগুলো কেটে সড়ক পরিষ্কার করা হবে।”
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, গাছ কেটে সড়ক পরিস্কার ও পর্যটক বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা দ্রুত সময়ে মাধবকুণ্ডকে একটি পর্যটক বান্ধব কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন।
ইএইচ