লংগদু পাকুয়াখালি গণহত্যার বিচারের দাবি পিসিসিপি’র

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙামাটি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালি গণহত্যার বিচারের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রতি পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে লংগদু উপজেলা কনফারেন্স কক্ষে শোক সভা, দোয়া ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শোক সভায় পিসিসিপি’র নেতৃবৃন্দ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালি গণহত্যা নৃশংস ইতিহাসের এক সাক্ষী হয়ে আজও বেঁচে আছেন মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া। ৩৫ জন কাঠুরিয়াকে সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী (জেএসএস) নির্মমভাবে হত্যা করে। মোট ৩৬ পরিবারের মধ্যে ৩৫ জন নিরস্ত্র বাঙালি কাঠুরিয়াকে টুকরো টুকরো করা হয়। একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ইউনুস মিয়া কৌশলে পালিয়ে আসেন। তার বেঁচে ফেরার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও ২৯ বছরেও প্রতিবেদনের কোনও ফলাফল জনসমক্ষে আসেনি। বেঁচে থাকা ইউনুস মিয়াও মামলা দায়ের করেছেন। স্বাক্ষী থাকা সত্ত্বেও হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি। নিহত ৩৫ পরিবারের সদস্যরা ২৯ বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম, সঞ্চালনা করেন লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি সুমন তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সি: সহ-সভাপতি মো. আসিফ ইকবাল। 

প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, লংগদু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ রেজা। এছাড়া ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

৩৫ কাঠুরিয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লংগদু উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৩ শতাধিক মানুষ শোক সভায় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করেন বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পিসিসিপি সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।

ইএইচ