শিক্ষক সংকটে আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫, ০৫:৪২ পিএম

বান্দরবানের সীমান্ত উপজেলা আলীকদমের একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বিপাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারছে না, ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এসএসসি পরীক্ষাও আশানুরূপ ফলাফল মেলেনি এ বিদ্যালয়ে।

‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪৫০জন হলেও অনুমোদিত শিক্ষক পদের অর্ধেকেরও বেশি খালি রয়েছে। ১৩ পদের পরিবর্তে ৬জন শিক্ষক আছে। বর্তমানে যে কয়জন শিক্ষক রয়েছেন, তারা অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানসহ কমার্স সাবজেক্ট-এর উপর কোনো শিক্ষক নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলোতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

‎বিদ্যালয়ের পড়ুয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েদ মোহাম্মদ আইমন, সুম্মিতা দে জানান, শিক্ষক না থাকায় শ্রেণীর নির্দিষ্ট ক্লাসগুলো নিয়মিত হয় না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের বিদ্যালয়ে বিগত এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ার একমাত্র কারণ হল শিক্ষক সংকট। 

‎আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল কুদ্দুস  বলেন, এ বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ও ধর্মীয় কোন শিক্ষক নাই। আমাদের ক্লাস নিতে কষ্ট হয়ে যায়।যে গ্রুপ সাবজেক্ট গুলো আছে এগুলো ক্লাস নিতে আমাদের সমস্যা হয়। আমাদের ২টা আইসিটি ল্যাব আছে, কিন্তু কোন শিক্ষক নেই। এ সমস্যার কারণে আমাদের বিগত ৩ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। 

‎আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। সারা বছর-এ ৬ জন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৩ বছর ধরে এখানে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কোন কর্মচারী নাই। অফিসে কাজ কর্ম করতেও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ভালো রেজাল্ট না হওয়ার কারণ হল শিক্ষক সংকট। আমি শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একাধিকবার আবেদন জানিয়েছি। তবে এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি।”

‎আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনসুর আলম বলেন, আলীকদম উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, জনবল সংকট আছে এইটা আমাকে জানানো হয়েছে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার না থাকা,পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার কারণে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। গতকাল নতুন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার যোগদান করেছেন, তার সাথে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন করা হবে। 

জেএইচআর