চারটি আসন বহাল রাখার দাবি

বাগেরহাটে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শেষ ৩৬ ঘণ্টায়, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বাগেরহাট প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫, ০৮:১৫ পিএম

বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জরুরি সভায় হরতাল সমাপ্তি ঘোষণা করেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম। পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি অফিস ও আদালতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। এরপর সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার (১৫-১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তিনদিন হরতাল পালিত হবে। তবে রাত ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হরতাল থেকে মুক্ত থাকবে।

ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়েতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, জেলা জামায়েতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস আলী, জামায়েতের যুব বিভাগের প্রধান শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বিএনপি নেতা সর্দার লিয়াকত আলীসহ সর্বদলীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

হরতাল চলাকালীন অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, সভা ও সরকারি অফিসে তালা দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালিত হয়। 

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে হরতাল শুরু হয় এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে সারি বাঁধে যানবাহন। বিশেষ করে বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, দড়াটানা সেতু, কাটাখালি মোড় ও নওয়াপাড়া মোড়সহ অন্তত ১৩৪টি স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং সাধারণত বহনব্যয় বেড়ে যায়।

হরতালের সময় মালবাহী ট্রাক চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। দড়াটানা সেতুর পাশে একটি ট্রাক চালক জানান, রাতে পিরোজপুর থেকে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে থেকে ২০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। তবে সর্বদলীয় কমিটি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রাথমিক প্রস্তাব আসে। এরপর থেকে বাগেরহাটবাসী আন্দোলন শুরু করে। ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসনই চূড়ান্তভাবে গেজেট প্রকাশ করে। এই সিদ্ধান্তকে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতৃবৃন্দ স্থানীয় মানুষের দাবির অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ (বাগেরহাট সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা) এবং বাগেরহাট-৩ (কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। পূর্ববর্তী চার আসনের সীমানা ছিল—বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) এবং বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)।

ইএইচ