সাদাপাথরে ‘কাটা ও ভাঙা’ পাথর: পর্যটকদের জন্য আতঙ্ক, অপসারণের উদ্যোগ

আতিকুর রহমান নগরী, সিলেট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫, ০৫:০১ পিএম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ এলাকা সাদাপাথর এখন পর্যটকদের জন্য আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি প্রতিস্থাপন করা কাটা ও ভাঙা পাথরের কারণে খালি পায়ে হেঁটেও দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের কারণে ধলাই নদীর উৎসমুখে বিপুল পরিমাণ সাদাপাথর জমে যাওয়ার পরও স্থানীয় ও কয়েকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী প্রকাশ্যেই শত শত নৌকায় করে পাথর লুট করছে। নদীতীরের বালু ও মাটি খোঁড়া হচ্ছে প্রশাসনের চোখে, দিনের আলোয়। স্থানীয়দের দাবি, এই সময়ে অন্তত কয়েক শত কোটি টাকার পাথর লুট হয়ে গেছে।

পাথর উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে প্রতিস্থাপিত ভাঙা ও কাটা পাথরের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পরিবেশকর্মীরা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাথর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে। পাথর প্রতিস্থাপনকালে বিষয়টি খেয়াল করা হয়নি, কিন্তু শিগগিরই কাটা পাথরগুলো অপসারণ করা হবে।

সিলেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, “আমরা আগে পাথর স্পটে রেখে দিচ্ছি, পরে পরীক্ষা করে দেখা হবে কোনগুলো ঠিক আছে। এগুলো আস্তে আস্তে সরানো হবে।”

জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় ৩০ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রতিস্থাপনের সময় বিভিন্ন রঙের পাথর ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। ভাঙা পাথরের কারণে পর্যটকরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন।

পর্যটকরা জানিয়েছেন, ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে ঘুরতে এসে বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলেন, কাটা পাথর পরিবেশ ও পানির স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং পর্যটকদের শারীরিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাটা পাথর স্থাপন করার কারণে পর্যটকরা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে পারেন।”

সিলেট বাপা’র সাধারণ সম্পাদক কাশ্মির রেজা বলেন, “পর্যটকরা স্বচ্ছ পানিতে পাথর দেখার জন্য এখানে আসেন। কাটা পাথরের কারণে পানির গুণগত মান ও পর্যটকদের আকর্ষণ কমে যাচ্ছে।”

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সাদাপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ইএইচ