সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর লুটের ‘মূলহোতা’ ও পদ স্থগিত করা বিএনপি নেতা হাজি সাহাব উদ্দিনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তার বিরুদ্ধে আলোচিত সাদা পাথর লুট ছাড়াও সাতটি মামলা রয়েছে।
শনিবার রাতে র্যাব-৯ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
সাহাব উদ্দিন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। সাদা পাথর লুট কাণ্ডে তার নাম আসায় কেন্দ্র থেকে তার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে সাদা পাথর লুটেরার তালিকায় সাহাব উদ্দিনের নাম রয়েছে।
আটকের পর রাতেই তাকে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাহাব উদ্দিনকে আটকের পর র্যাব-৯ রাত ২টা ২৯ মিনিটে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দায়ীদের আটকে র্যাব-৯ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সাহাব উদ্দিনকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় খনি ও খনিজসম্পদ নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন আইনে করা মামলায় আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, সাহাব উদ্দিন একজন পাথর ব্যবসায়ী। ভোলাগঞ্জ পাথর আমদানিকারক সংগঠনেরও নেতৃত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার নেতৃত্বে একটি চক্র সক্রিয় হয় ভোলাগঞ্জে। ৫ আগস্টে ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক পাশের রিসোর্ট ও রোপওয়ে বাঙ্কারে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, ভোলাগঞ্জ শুল্কস্টেশন এলাকার সরকারি সরকারি জমি দখল, পাথর মহালের জমি ভাড়া দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, ১১ আগস্ট রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সাহাব উদ্দিনের সব পদ স্থগিত করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিএনপির নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সকল দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।’
জেএইচআর