ফরিদপুরে রেল-মহাসড়ক অবরোধ

পুলিশের সম্মানে যান চলাচল স্বাভাবিক, কাল ফের অবরোধ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৬:৪১ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে তিন দিনের চলমান মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শেষ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। 

তবে তারা ঘোষণা দিয়েছে, আগামীকালও একই দাবিতে আন্দোলন চলবে এবং গ্রেফতার হওয়া আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ম. সিদ্দিক মিঞাকে মুক্তি দিতে হবে।

রোববার সকাল ছয়টা থেকে ঢাকা-খুলনা ও বরিশাল মহাসড়কসহ ভাঙ্গার সাতটি স্থানে জনতা সড়ক ও রেলপথ অবরোধে নেমে আসে। 

অবরোধকারীরা সকাল থেকেই নকশিকাঁথা ট্রেন আটকে দেয় এবং খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ভাঙ্গা জংশনে দাঁড়িয়ে থাকে।

ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. এসকেন্দার মিয়া বলেন, “আমাদের আন্দোলন আগামীকালও চলবে। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানকে মুক্তি দিতে হবে। ওসি ও ভাঙ্গা সার্কেল এসপি আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা জানিয়ে বলেছেন এখনই আন্দোলন বন্ধ করতে হবে। তবে আমরা রাজি হইনি। পুলিশ ও প্রশাসনের সম্মানে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আজকের মতো অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আজকের মতো অবরোধ শেষ হয়েছে। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামীকালও একই দাবিতে আন্দোলন হবে।”

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মানুষের ভোগান্তি এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।”

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর। এর প্রতিবাদে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় রবিবার থেকে তিন দিনের টানা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চালানো হয়। ভাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে সকাল ছয়টার পর থেকে পুখুরিয়া, হামিরদী, মাধবপুর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একযোগে অবরোধ চলে।

ইএইচ