ভেজাল কীটনাশকে কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

চলতি শীতকালীন মৌসুমে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছিলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের মারিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক রাকিব হাসান, সাইদুল ইসলাম ও আবেদ আলী। 

জমি প্রস্তুত করে ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চারা রোপণ করেন তারা। সযত্ন পরিচর্যায় গাছগুলো তরতাজা হয়ে উঠলেও হঠাৎ কিছু গাছে পচন দেখা দেয়।

এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে কৃষকেরা উপজেলার ডেমাজানী বাজারের জিয়াউর রহমান জিয়ার কীটনাশক দোকানে যান। ব্যবসায়ী জিয়া ও সুইট এগ্রোভেট লিমিটেড কোম্পানির পরিবেশকের পরামর্শে তারা ‘সুইটনেব ৭৬ ডব্লিউপি’ পচননাশক পাউডার কিনে নির্দেশনা অনুযায়ী জমিতে স্প্রে করেন। কিন্তু ২-৩ দিনের মধ্যেই উল্টো চারা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এমনকি জমির ঘাস পর্যন্ত পুড়ে যেতে দেখা যায়। ফলে পুরো জমি নষ্ট হয়ে কৃষকের স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে যায়।

একই ওষুধ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের বর্গাচাষি সাবেদ আলী, আনোয়ার হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাকিব হাসান জানান, তার ৩০ শতক করলা ও ১০ শতক ফুলকপির চারা নষ্ট হয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সাইদুল ইসলামের ৮ শতক ফুলকপি ও ১৬ শতক করলা নষ্ট হয়ে ক্ষতি প্রায় ৮০ হাজার টাকা। আবেদ আলীর ১৬ শতক ফুলকপি নষ্ট হয়ে ক্ষতি প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

চোপিনগর ইউনিয়নের বৃকুষ্টিয়া গ্রামের ছাবেদ আলীর ১২ শতক পটল, ১২ শতক করলা ও ১২ শতক সীম-কালাই নষ্ট হয়ে ক্ষতি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ২০ শতক বরবটি, কালাই ও সীম গাছ বিনষ্ট হয়েছে। কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তার ১ বিঘা জমির বেগুন, ফুলকপি ও শসার চারা নষ্ট হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অসহায় কৃষকেরা অবশেষে উপজেলা কৃষি অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

তারা জানান, ভেজাল মিশ্রিত কীটনাশকের কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে।

কীটনাশক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক বিক্রি করি। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা কোম্পানিকে জানানো হয়েছে।”

তবে সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, “ভুক্তভোগী কৃষকেরা অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইএইচ