ব্যাটারিচালিত রিকশা: বিক্রয় বৈধ, সড়কে অবৈধ

আতিকুর রহমান নগরী, সিলেট প্রকাশিত: অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৩:১৫ পিএম

সিলেট নগরীতে পুলিশের অভিযানের পরও হালকা যান ব্যাটারি চালিত রিকশা ও টমটম বন্ধ হয়নি। বেপরোয়া গতির এই গাড়ি সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। 

নগরীর রাজপথ থেকে অলিগলি, সড়ক থেকে মহাসড়ক—সবখানেই চলাচল করছে হালকা যান ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি অটোরিকশা।

সম্প্রতি প্রশাসন কঠোর হওয়া স্বত্বেও পুরোপুরি লাগাম টানতে পারেনি। অভিযানের নির্ধারিত সময় শেষে আবারো ‘যেই লাউ, সেই কদু’।

নগরীতে জেলা প্রশাসন, এসএমপি ও নগর কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানের এসব যান আটকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। এই অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহের অভিযানে দুই শতাধিক অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা হয়েছে। অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল প্রতিরোধে গ্যারেজে চার্জিং পয়েন্টগুলোরও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এমন কার্যক্রমে নগরবাসীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

তবে, নগরীর সড়কে অভিযান চালালেও শো-রুমগুলোতে অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলো যেন নজর এড়িয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষের। ব্যাটারি চালিত রিকশা কেবল সড়কেই অবৈধ, শো-রুমে বৈধ—এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রকাশ্যে অবৈধ টমটম ও অটোরিকশার অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেকে সিসিক থেকে পার্টস ও ব্যাটারির ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ গ্যারেজ মালিকরা চার্জিং পয়েন্ট খুলে বসেছেন।

ট্রেড লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সহায়তা করেছে সিসিকের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ। এতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা আদায়কারী, পরিদর্শক ও বিদ্যুৎ বিভাগের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বশীলদের সঙ্গে। তারা সরেজমিন প্রতিবেদন না দিয়ে শোরুম মালিকদের ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের ক্ষেত্রেও সমান অভিযোগ রয়েছে।

এভাবে অবৈধ শোরুম মালিক ও গ্যারেজে চার্জিং পয়েন্টের মালিকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে সংযোগ দিয়েছেন। ফলে বছরের পর বছর অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ সিসিকের দায়িত্বরতরা কোনো পদক্ষেপ নেননি।

অপরদিকে, বেশিরভাগ ব্যাটারিচালিত টমটম ও অটোরিকশার ব্যবসায়ীদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স এক ধরণের, আর ব্যবসা চলছে অন্য ধরণের। নগরবাসীর অনেকের অভিযোগ, সড়কের অভিযান শুধুমাত্র লোক দেখানো।

সরকারি ও বেসরকারি অনেকেই বিভিন্ন শোরুম মালিকদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। যার কারণে এসব শোরুম মালিক ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রতিহত করা গেলেও শোরুম বন্ধ করা হচ্ছে না। শোরুমের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল মেয়র ও মহনগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা ও টমটমের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপননকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র চালকদের পিছনে ছুটলে হবে না। আগে তার মূল উৎপাটন করতে হবে।”

এসএমপি পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, “ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম ও রিকশার শোরুম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শীঘ্রই ফলাফল দেখা যাবে।”

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “ব্যাটারিচালিত অবৈধ টমটম ও রিকশার শোরুম ব্যবসায়ী ও গ্যারেজে যারা চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করেছে, তাদের তালিকা আমরা সরেজমিন তৈরি করেছি। কে কোন ধরণের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে এবং তার অপব্যবহার করছে, সেই তালিকা ও ছবি প্রস্তুত করা হয়েছে।”

ইএইচ