মাগুরা শহরে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা, আর ঝুড়ি ফাঁকা

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম

মাগুরা শহরের ব্যস্ত সড়কগুলো এখন যেন ময়লার ভাগাড়। পৌরসভা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল রঙের ঝুড়ি বসালেও নাগরিকদের অনেকেই সেখানে ময়লা ফেলছেন না। বরং ঝুড়ির পাশেই রাস্তার উপর ফেলে যাচ্ছেন আবর্জনা যার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ভুগছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, ইসলামি ব্যাংকের সামনে, গার্লস স্কুলের পাশ, অগ্রণী ট্রেডার্স ভবনের সামনে, ব্রাক ব্যাংক ভবনের সামনের অংশ ও লার্জ ফার্মার সংলগ্ন সড়কে ছড়িয়ে রয়েছে পচা খাবার, পলিথিন, প্লাস্টিক ও প্যাকেটজাত বর্জ্য। অথচ ঠিক পাশে খালি পড়ে আছে পৌরসভার ময়লার ঝুড়ি।

স্থানীয় দোকানদার আমিনুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঝুড়ি আছে, কিন্তু লোকজন সেখানে না ফেলে রাস্তায় ফেলে যায়। বিশেষ করে ভবনের ভাড়াটিয়ারা আর কিছু দোকানদার রাতের বেলায় ময়লা ফেলে চলে যান।

একজন পথচারী ইকবাল হাসান বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলগামী ছেলেমেয়েরা যায়। দুর্গন্ধে নাক চেপে যেতে হয়। পৌরসভা বা স্থানীয় বাসিন্দা কেউই যেন দায়িত্ব নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে মাগুরা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী ইতি জানান, আমরা প্রতিদিন সকালে ময়লা অপসারণ করি। কিন্তু নাগরিকরা যদি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলেন, শহর পরিষ্কার রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিচ্ছন্নতা শুধু পৌরসভার নয়, এটা সবার দায়িত্ব।

মো. আহসান বারী, নির্বাহী প্রকৌশলী মাগুরা পৌরসভা জানান, পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তার উপর ফেলে রাখেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসভ্য আচরণ। আমাদের অনুরোধ নাগরিকরা যেন নির্দিষ্ট ঝুড়িতে ময়লা ফেলেন, কারণ পৌরসভার গাড়ি প্রতিদিনই সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়।

পরিবেশবিদরা বলছেন শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় পৌরসভার উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ববোধই মুখ্য। তারা মনে করেন, নিয়মিত ময়লা অপসারণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা না নিলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সবিতা বলেন, নিজ শহরকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। স্কুল-কলেজে পরিবেশ শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা দরকার।

এ বিষয়ে মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক মো. আব্দুল কাদের বলেন, আমরা নিয়মিত ময়লা অপসারণ করছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু কিছু অসচেতন নাগরিক ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় ময়লা ফেলছেন। এটি শুধু অপরাধ নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধের চরম অভাবের বহিঃপ্রকাশ। আমরা শিগ্‌গিরই এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, শহরটিকে সুন্দর রাখতে হলে পৌরসভার সঙ্গে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ময়লা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন, এতে শুধু পরিবেশ নয়, আমাদের নিজের জীবনও হবে নিরাপদ।

মাগুরা পৌরসভা ইতোমধ্যেই “নিজ শহর, নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখি” শীর্ষক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এখনই যদি নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হয়, তাহলে মাগুরার শহর পরিচ্ছন্নতা শুধু কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। 

মাগুরা শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ময়লা এখন শুধু চোখে পড়ার মতো নয়, বরং একটি নাগরিক সংকটের প্রতীক হয়ে উঠছে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

জেএইচআর