গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট বাজার থেকে এক এনজিও কর্মীর মেঝেতে পড়ে থাকা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ধাপেরহাটের দক্ষিণবন্দর এলাকায় টিন কাদের সরকারের চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় উত্তরা ব্যাংকের নিচতলায় অবস্থিত এসকেএস এনজিওর আবাসিক মেস থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত এনজিও কর্মীর নাম বিল্লাল হোসেন (২৯)। তিনি পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার কামাতপাড়া দেবনগর গ্রামের এমদাদুল হকের পুত্র।
এসকেএস এনজিও সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে বিল্লাল হোসেন সহকারী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে ধাপেরহাট শাখায় যোগদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এরিয়া ম্যানেজার মাসুদুর রহমান।
সহকর্মীরা জানান, শুক্রবার অফিস ছুটির দিন হওয়ায় সবাই বাসায় চলে যান। তবে বিল্লাল অফিসের আবাসিক কক্ষে একাই অবস্থান করছিলেন। দুপুরের দিকে এক সহকর্মী অফিসের মোটরসাইকেলের চাবি নিতে গিয়ে দরজা বন্ধ পান। বারবার ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে নিচে থাকা স্থানীয় ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদকে বিষয়টি জানান।
পরে হারুন তার ম্যানেজারকে উপরে পাঠালে তিনিও কোনো সাড়া না পেয়ে নিচে নেমে আসেন এবং ঘটনাটি ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে অবগত করেন।
তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন সরকার ও এসআই সুপদ রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ দরজার তালা ভেঙে প্রবেশ করে বিল্লালের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, গামছার এক প্রান্ত সিলিং ফ্যানের সঙ্গে এবং অপর প্রান্ত বিল্লালের গলায় পেঁচানো অবস্থায় তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই সুপদ রায় বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ স্বপন সরকার বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বিল্লাল হোসেন গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সিলিং ফ্যান থেকে গামছা ছিঁড়ে সে মেঝেতে পড়ে যায়। গামছা দীর্ঘক্ষণ তার ভার বহন করতে পারেনি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
এদিকে, সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজ উদ্দিন খন্দকার জানান, “ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিক চাপে তিনি এ ঘটনা ঘটাতে পারেন। থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ইএইচ