নামমাত্র শ্রম ও অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় শেরপুরের নকলা উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পানিফল চাষ। জলাবদ্ধ পতিত জমিতে সহজেই এই ফলের চাষ হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের জীবনে এসেছে স্বচ্ছলতা।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, ডোবা, বদ্ধ জলাশয় বা মাছের ঘেরের মতো জায়গায় পানিফল চাষ করা যায়। পানির ওপর ভাসমান এই গাছ দেখতে অনেকটা কচুরিপানার মতো, তবে এর ফল কচি অবস্থায় লাল, পরে সবুজ এবং পরিপক্ব হলে কালো হয়ে যায়। খোসা ছাড়ালে হৃৎপিণ্ড বা ত্রিভুজাকৃতির নরম, সাদা ও সুস্বাদু শাস পাওয়া যায়, যা কাঁচা অবস্থাতেই খাওয়া যায়।
নকলার পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর, চন্দ্রকোনা, উরফা, গণপদ্দী ও বানেশ্বরদী ইউনিয়নের অনেক গ্রামে এখন বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে পাঠাকাটা ইউনিয়নের কৈয়াকুড়ি, পলাশকান্দি, দশকাহনিয়া ও নামা কৈয়াকুড়ি এলাকায় এর চাষ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
চাষিরা জানান, পানিফল চাষে সেচ বা সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কম, আর ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। অনেকেই অন্যের জলাবদ্ধ জমি বর্গা বা চুক্তিভিত্তিতে নিয়ে পানিফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
তবে চাষিরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পেলে পানিফল চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং জলাবদ্ধ অনাবাদী জমিগুলো হয়ে উঠতে পারে উৎপাদনশীল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মুরসালিন মেহেদী বলেন, পানিফল রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় এটি একটি নিরাপদ ফল। জলাবদ্ধ জমিতে যেখানে আমন ধান বা অন্যান্য ফসল সম্ভব নয়, সেখানে পানিফল চাষে প্রান্তিক কৃষকরা ভালো আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় তথ্যসূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে, যা সম্ভাবনাময় এই ফলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেএইচআর