নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ান (৮) নামে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে পিতা ও সৎ মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) সাঈফুদ্দিন গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার ভোরে উপজেলার পৃথক স্থান থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো নিহত সাফওয়ানের পিতা মারুয়াদি গ্রামের রাকিবুল হাসান রোকন (৪৫) ও সৎ মা হামিদা আক্তার (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত তিন বছর আগে শিউলি আক্তারকে তালাক দিয়ে বগাদী গ্রামের আব্দুল হালিমের মেয়ে হামিদা আক্তারকে বিয়ে করেন মারুয়াদি এলাকার রাকিবুল হাসান রোকন। আগের সংসারে সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ান নামে এক সন্তান ছিল।
রাকিবুল হাসান রোকন ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় আকিজ গ্রুপের একটি কোম্পানিতে গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী হামিদা আক্তার ও ছেলে সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ানকে নিয়ে ওই উপজেলার রায়মনি গ্রামের সেলিম মিয়ার বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
গত বৃহস্পতিবার তারা সাফওয়ান অসুস্থ হয়ে মারা গেছে এই কথা বলে তার মরদেহ নিয়ে মারুয়াদি এলাকায় দাফন-কাফন সম্পন্ন করতে আসেন। মরদেহের গোসল করার সময় সাব্বির আহম্মেদ সাফওয়ানের গায়ে জখমের চিহ্ন দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে নিহতের সৎ মা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে নিহতের পিতা রাকিবুলকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ওই দিন সন্ধ্যার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে। রাকিবুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের সৎ মা হামিদা আক্তারকে শুক্রবার ভোরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বগাদী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) সাঈফুদ্দিন জানান, মা শিউলি আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে সাফওয়ানের পিতা ও সৎ মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানা এলাকায়, তাই গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ওই থানায় নিহতের মা শিউলি আক্তার হত্যা মামলা দায়ের করবেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।
ইএইচ