আমন ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ, বৃষ্টিতে সবজিও নষ্ট হতাশ কৃষক

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম

ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধানের জমিতে ব্যাপক হারে মাজরা (কারেন্ট) পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ধানের কাণ্ড কাটার ফলে শীষ নষ্ট হয়ে গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বারবার কীটনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে হতাশ। 

এদিকে হঠাৎ অযাচিত বৃষ্টির কারণে শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দুই দিকের আঘাতে কৃষকের নাভিশ্বাস উঠেছে।

শহরতলির ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল, সদর, গৌরীপুর, ধোবাউড়া ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক ধানগাছ মাঝ বরাবর কাটা হয়ে শুকিয়ে পড়ে আছে। কৃষকেরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই পোকার আক্রমণ বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টিতে মাঠজুড়ে জমেছে পানি, ফলে শিম, বেগুন, মরিচ, পেঁপে সহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেতও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, আলু ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গৌরীপুরের কৃষক আমিনু ইসলাম জানান, “তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছি, তবুও কোনো লাভ হচ্ছে না। ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। এখন আবার বৃষ্টি হওয়ায় শাকসবজিও নষ্ট হলো। সব মিলিয়ে উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হবে মনে হচ্ছে।”

সদরের কৃষক রইস উদ্দিন জানান, কৃষি উপকরণের দাম বেশি, সেই সাথে ফসলের ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেবো!

ধোবাউড়ার কৃষক মানিক মিয়া বলেন, “মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। কখন কোন ওষুধ ব্যবহার করব ঠিক জানি না। আবার বৃষ্টিতে লাউ, শিম, মিষ্টি কুমড়ার গাছ মাটিতে লুটিয়ে গেছে। দুই দিক থেকে ধরা খেয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।”

ময়মনসিংহের চরাঞ্চলের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, “শুধু পোকাই না, বৃষ্টিতে পেঁপে ও শাকসবজির অনেক গাছ মারা গেছে। বাজারে দাম বাড়বে, অথচ আমরা কিছুই তুলতে পারছি না।”

এদিকে কৃষকেরা অভিযোগ করছেন, কার্যকর নির্দেশনা না পাওয়ায় অনেকেই ভুলভাবে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন, এতে খরচ বাড়ছে কিন্তু ফল মিলছে না। একই সঙ্গে বৃষ্টির পর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে জানান তারা।

ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, “মাঠ পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। কৃষকদের সঠিক ওষুধ ও পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবজি ক্ষেতের ক্ষতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

কৃষকেরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলে আমন ধানের উৎপাদন এবং শাকসবজি উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাড়ানো, সঠিক পরামর্শ প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ইএইচ