ভোলার মনপুরায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে অবৈধ স-মিল। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এসব স-মিল। প্রতিদিন কাটা হচ্ছে বনজ ও ফলজসহ নানা প্রজাতির গাছ। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি বনাঞ্চল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়েই রাত-দিন সবসময় সচল থাকে এসব স-মিল।
উপজেলার হাজীরহাট, রামনেওয়াজ, চৌধুরী বাজার, চৌমুহনী, ফকিরহাট, ভূইয়ারহাট, আনন্দ বাজার, মাস্টার হাট, সিরাজগঞ্জ বাজার, কোড়ালিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অবৈধ স-মিল রয়েছে।
মনপুরা উপজেলা বন বিভাগের তথ্যমতে, মনপুরা উপজেলায় ১৮-২০টি করাতকল রয়েছে। যার কোনোটি’ই নেই সরকারি লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলে এসব করাতকল। অনেকেই জানেন না সরকারি নীতিমালা কী।
মনপুরা সরকারি কলেজের ছাত্র পারভেজ জানান, ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এসব স-মিল।
স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই এসব অবৈধ স-মিল মালিকরা ব্যবসা করে আসছে।
সরকারি নীতিমালায় স-মিল স্থাপন বিধিতে বলা হয়েছে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান এবং জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটার এবং সরকারি বনভূমির সীমানার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে স-মিল স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া সকাল ৬টার আগে এবং সন্ধ্যা ৬টার পরে স-মিল চালানো যাবে না।
কিন্তু এসব সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই চালানো হচ্ছে স-মিলগুলো।
লাইসেন্স না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স-মিল মালিক জনকণ্ঠকে জানান, আমরা লাইসেন্স ছাড়াই চলতে পারি। আমাদের লাইসেন্স করার দরকার নেই। লাইসেন্স পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় তাই এভাবেই আমরা স-মিল চালাই।
এ বিষয়ে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, মনপুরার সবগুলো স-মিলই অবৈধ। এর আগেও আমরা অনেকবার অভিযান চালিয়েছি। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ পেলে আমরা আবারও অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনবো।
ইএইচ