ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিআরডিবি’র নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগে আদালতে মামলা (দে: মামলা নং-২৭৬/২৫) করেছেন সমবায়ী আহমেদ আলী।
আহমেদ আলী সরাইল সদরের কুট্রাপাড়া উত্তর সমবায় সমিতির সদস্য। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নির্বাচন পরিচালনার কমিটির ৩ সদস্যসহ ৪ কর্মকর্তাকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নোটিশ দিয়েছেন।
মামলায় সমবায় বিধিমালা ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া ভাবে পরিচালনা কমিটি গঠন, বদলি হওয়া কর্মকর্তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা, ৬০ দিনের স্থলে ৫৮ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান, অবৈধ ঘোষিত সমিতিকে মাত্র ৩-৪ মাস পরই বৈধতা প্রদান, কিস্তি/ঋণ খেলাপি সমিতিকে তালিকাভুক্ত, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কয়েকটি সমিতির রেজিস্টারের কাগজপত্র গায়েব করা সহ নানা অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলা ও সমবায়ী সূত্র জানায়, আগামী ১০ নভেম্বর সরাইল বিআরডিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাচন। কমিটির ৮ পদের মধ্যে সভাপতি ও সদস্য পদে নির্বাচন হবে। বাকি ৬ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। পরে ৪ জন কর্মকর্তা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এই নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনার শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন আহমেদ আলী নামের একজন সমবায়ী। তিনি সরাইল সদরের কুট্রাপাড়া উত্তর কৃষক সমবায় সমিতির সদস্য।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অন্তবর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশনে উল্লেখিত ও সরাইল উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার (সদস্য সচিব) কর্তৃক সুপারিশকৃত পত্রের স্বারক নম্বর (৪৫৯) ও তারিখ (১৭.০৯.২০২৫ খ্রি.) ঠিক রেখে পুরো পরিচালনা কমিটি পরিবর্তন করে ফেলেছেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রায়হান উদ্দিন নিয়মানুসারে পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা। কিন্তু সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের উপজেলা সমবায় অফিসার মো. আজিজুল হককে সভাপতি নির্বাচন করেছেন।
পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম খন্দকারকে সরাইল উপজেলা থেকে গত ৪ আগস্ট যুগ্ম নিবন্ধক স্বাক্ষরিত পত্রে কুমিল্লা জেলা সমবায় কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। অথচ বদলি হওয়া এই ব্যক্তিকে পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শেয়ার মূলধনভুক্ত সমিতিগুলোকে নোটিশ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। সমবায় বিধিমালায় ৬০ দিন পূর্বে নোটিশ দেওয়ার বিধান। কিন্তু এই পরিচালনা কমিটি ৫৮ দিন পূর্বেই নোটিশ প্রদান করে ফেলেছেন।
পরিচালনা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে গত ১১ মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে স্বাক্ষরিত স্বারক নং-২৫ (০৭) পত্রে ৮টি সমিতির মধ্যে ৭টি সমিতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। ওই কমিটি কিভাবে মাত্র ৭ মাস পর ৭টি অবৈধ সমিতির অধিকাংশ সমিতিকে বৈধ লিখে তালিকা প্রকাশ করেন?
বৈধ/বাতিলকৃত প্রার্থীদের তালিকা ২৫ অক্টোবর শনিবার প্রকাশের নির্দেশনা দিয়ে ২৬ অক্টোবর রোববারে প্রকাশ করেছেন। নিয়ম না থাকলেও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সংরক্ষিত প্রতীক ছাতা, জাকের পার্টির জন্য সংরক্ষিত প্রতীক গোলাপ ফুল, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সংরক্ষিত প্রতীক আমসহ অন্যান্য দলের প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে।
মামলায় সরাইল বিআরডিবি’র পরিদর্শক মেনহাজ উদ্দিন ঠাকুর অলকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী করতে সমিতির রেজিস্টারসহ অন্যান্য কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করছেন সমবায়ী আহমেদ আলী ও মো. রাহাত হোসেন। তারা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।
এ মামলায় পরিচালনা কমিটির ৩ সদস্য, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, অন্যান্য কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে সরাইল সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আজিজুল হক, সদস্য মো. রায়হান উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব (সরাইল উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার) মো. মাসুদ রানাকে আগামী ৫ নভেম্বর স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আজিজুল হক বলেন, এটি একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে পাঠানো হবে। বিষয়টি আমরা দেখছি।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা পরিচালনা কমিটির সুপারিশ বা প্রস্তাব পাঠাবে। জেলা কর্মকর্তা সেটা পরিবর্তন পরিবর্ধন করার ক্ষমতা রাখেন। তবে কমিটির কোন সদস্য অনিয়ম করলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইএইচ