রাঙামাটিতে জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙামাটি প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ডিউটি রুম থেকে সাথী বড়ুয়া নামে এক সিনিয়র নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সাথী বড়ুয়ার বাড়ি রাঙামাটি শহরের দেবাশীষ নগর এলাকায়। তার পিতা মৃত মাখন বড়ুয়া এবং মাতা সোনালী বড়ুয়া।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ডিউটি রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে অন্য নার্সরা ডাকাডাকি শুরু করলে কোন সাড়া না পাওয়ায় জানালা দিয়ে দেখতে পান তিনি ঝুলে আছেন। পরে কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে তারা পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে রুমে ঝুলন্ত অবস্থায় সাথী বড়ুয়ার লাশ উদ্ধার করে।

রাঙামাটি হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শী নার্সরা জানান, সাথী বড়ুয়া গত দুই-তিন দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গতকাল রাতে তার নাইট ডিউটি থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে অপারগতা জানান এবং ছয় দিনের সিএল ছুটির অনুমতি চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাকে ডিউটি থেকে অব্যাহতি দিয়ে মাসের শেষ তিনদিন নাইট ডিউটি করার জন্য বলা হয়।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ভোররাত থেকে অসুস্থতার কারণে তিনি রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে বেডে থাকা অবস্থায় অন্যান্য নার্সদের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বিরক্ত হন। পরবর্তীতে জরুরি বিভাগের সামনে রুম নং-১৬, নার্সেস চেঞ্জিং রুমে বিশ্রাম নিতে আসেন।

হাসপাতালের অন্য সিনিয়র নার্স সাধনা চাকমা জানান, ডিউটির সময় ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য রুমে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পরে রুমের লক খুলে দেখেন জানালার সাথে গলায় উড়না পেছিয়ে সাথী বড়ুয়া ঝুলে আছেন।

সাথী বড়ুয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯১ সালের ১৫ নভেম্বর। তিনি ট্রেনিং শেষ করে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগদান করেন।

রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাহেদ জানান, সাথী বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা (সুইসাইড) হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা বলেন, “সাথী বড়ুয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। গতকাল রাতে তার ডিউটি থাকলেও তিনি ছুটি নিয়েছিলেন। রাতে অসুস্থ বোধ করলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি বেড ছেড়ে ডিউটি রুমে আসেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লাশ দেখতে পেয়ে আমাদের জানানো হয়। পরিবারের অনুরোধ সত্ত্বেও আমরা পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করেছি।”

ইএইচ