কেন্দুয়ায় আগাম শিম চাষের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি 

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০১:৩২ পিএম

চলতি বছরে রবি মৌসুমে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আগাম শিম চাষ করে কৃষকের ভাগ্যে বেশি মুনাফা হয়েছে। মাচায় দুলছে চাষির আশার স্বপ্ন শিম। চাষির মুখে ফুটে উঠেছে মিষ্টি হাসি রঙিন ফুল আর সবুজ শিমের সঙ্গে। বেগুনি রঙের মনোমুগ্ধকর ফুলে ভরে গেছে কৃষকের শিমের মাচা। মৌসুম শুরুর আগেই এমন মনোরম দৃশ্যে মাচায় ভরে আছে কেন্দুয়া উপজেলার শিমের বাগানগুলো। 

কেন্দুয়া উপজেলায় আগাম শিম চাষ করে ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন ওই এলাকার কৃষকরা। শীতকালীন সবজির মধ্যে অন্যতম হলো শিম। কয়েক বছর ধরে এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আগাম জাতের শিম। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই আবাদে ঝুঁকছেন চাষিরা। আগাম বাজারে নামাতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশা কৃষকদের। 

উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের শিম চাষি ইসলাম উদ্দিন বলেন, ৪০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছি, এতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এখন পর্যন্ত উৎপাদিত শিম বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আমার অভাবের সংসারে এবার শিম বিক্রি করে ভাগ্যে বদল হবে। আবহাওয়া ভালো ও উর্বর জমি হওয়ায় শিমের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়া বাজারে দাম ভালো থাকায় এবার আগাম জাতের শিম বিক্রি করে অনেক লাভবান হয়েছে। 

রোয়াইলবাড়ী  ইউনিয়নের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে আগাম শিম চাষ করছি। এ যাবত প্রায় ৬০ টাকা কেজি দরে প্রায় ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করছি। আমার শিম ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আনুমানিক লক্ষাধিক টাকার শিম বিক্রি করতে পারব। এবার শিম বিক্রি করে আমার পরিবারের অভাবমোচন এবং আমার ভাগ্যে বদল হবে ইনশাল্লাহ। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, কেন্দুয়া উপজেলায় মাটি খুবই উর্বর। তাই শিম চাষ উপযোগী হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা শিম চাষে বেশি আগ্রহী হন। শিম চাষে ভালো ফলনের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছেন।

হুমায়ুন দিলদার আরও জানান, উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করেছেন কৃষকেরা। তবে এর বাইরেও বেসরকারিভাবে বেশকিছু শিম চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কেন্দুয়া উপজেলায় এ বছর বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড শিমের আগাম চাষ হয়েছে, যা থেকে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

জেএইচআর