নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন বেলায়েত হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বেলায়েত হোসেন উপজেলার ৫নং সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি পদেও রয়েছেন।
বেলায়েত হোসেন একই ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের তাহের উদ্দিনের ছেলে।
বেলায়েতের দলে যোগদানের বিষয়ে উভয় দলের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলায়েত দীর্ঘ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সর্বশেষ অনুমোদিত ওয়ার্ড কমিটিতে তিনি সহ-সভাপতি হন। এর আরও কয়েক বছর আগে তিনি একই ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। সহ-সভাপতি হিসেবে গত ১৯ জুন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে উপনির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে ভোট দেন বেলায়েত।
এ বিষয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, এক সময় বিএনপি করতাম। ২০২১ সাল থেকে জামায়াতে যোগদান করেছি। বর্তমানে ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। বিএনপি থেকে নাম কেটে দেওয়ার জন্য নেতাদের মৌখিকভাবে বলেছি, কিন্তু লিখিত আবেদন করিনি। তবে তারা আমার নাম কমিটি থেকে বাদ দেয়নি। গত ১৯ জুন ইউনিয়ন বিএনপির উপনির্বাচনে ভোট দেইনি, তবে নির্বাচন দেখতে গিয়েছিলাম।
উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমানের দাবি—বেলায়েত ২০২০ সাল থেকেই ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় তিনি বিএনপি করতেন। তবে ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত ট্যাগ দিয়ে বেলায়েতকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ওই সময় বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো রকমের সহযোগিতা পাননি তিনি। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে আইনি সহযোগিতাসহ সকল রকমের সহায়তা করা হয়। পরে তিনি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ জামায়াতে যোগদান করেন।
ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নান্নু মিয়া বলেন, বেলায়েত হোসেন অনেক আগে থেকেই বিএনপিতে ছিলেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হন। কিছুদিন আগে শুনেছি তিনি ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তাকে বহিষ্কার করব ভাবছি, তবে সময়ের কারণে হয়ে উঠছিল না। এ বিষয়ে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ বছর ধরেই বেলায়েত বিএনপি করতেন। সম্প্রতি জানলাম জামায়াতের পদেও রয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইএইচ