চৌগাছার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ওষুধ ও জনবল সংকটে ভোগান্তিতে প্রান্তিক জনগণ

এম এ মান্নান, চৌগাছা (যশোর) প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৫:৫১ পিএম

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (এফডব্লিউসি) থাকলেও ওষুধ ও জনবল সংকটে এই ১১টি কেন্দ্র কার্যক্রমে বিপর্যস্ত। রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিছু ওষুধ আসলেও তা রোগীদের হাতে পৌঁছায় না। দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় সেবা নিতে আসা অনেক রোগী হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, এসব কেন্দ্রে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জ্বর, সর্দি, কাশি, চর্মরোগসহ মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার ৩০/৩২ ধরনের ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় রোগীদের শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। একটি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৪ মাস ধরে এসব কেন্দ্রের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ।

মঙ্গলবার পতিবিলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সেবা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের নিমাই চন্দ্র পাল (৭৬) বলেন, “এখানে কোন দিন ওষুধ পাওয়া যায় না। আমি যতদিন এসেছি খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে।”

মুক্তদাহ গ্রামের সোনিয়া খাতুন তার দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে এসে বলেন, “ছেলেটির কয়েকদিন ধরে জ্বর-সর্দি-কাঁশিতে ভুগছে। ডাক্তার ঔষধ লিখে দিয়েছেন, তবে কোনো ওষুধ দেয়নি। আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা খরচ ছাড়া ডাক্তার দেখানো এবং বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার জন্য এখানে আসি। এখন এখানে ঔষধ না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।”

পৃথকভাবে মৌসুমি আক্তার বলেন, “আমার মেয়ের অসুস্থতার জন্য মাস তিনেক আগে এসেছিলাম, তখনও ওষুধ পাইনি। এবারও শুধু ঔষধ লিখে দিয়েছেন। শহরে ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, যা খুব ভোগান্তিকর এবং ব্যয়বহুল। আমার স্বামী দিনমজুর, তাই চিকিৎসা ঠিকমত করা সম্ভব হচ্ছে না।”

উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে জনবল সংকটও প্রকট। পতিবিলা কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট নেই। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও একজন এমএলএসএস দায়িত্ব পালন করছেন। উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বা স্যাকমো পদে কেউ নেই। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সামীমা ইয়াছমিন একাই তিনটি কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তিনি জানান, ওষুধ সরবরাহ ১৪ মাস বন্ধ থাকার কারণে রোগীদের চাপ কমলেও গত এক মাসে স্বাভাবিক কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার হাকিমপুর, ফুলসারা, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, জগদিশপুর, নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ও সুখপুকুরিয়া কেন্দ্রেও একই চিত্র। সেবা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। স্বরুপদাহ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নাসিমা বেগম জানান, “আগে ২৪-২৫ ধরনের ওষুধ দিতাম। এক বছরের বেশি সময় ধরে সাপ্লাই না থাকায় এখন শুধু পরামর্শ দিয়ে পাঠাই। জনবল সংকট থাকায় আমাকে একাধিক কেন্দ্র সামলাতে হচ্ছে।”

পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্যাকমো পদে এক জনও নেই, ফার্মাসিস্ট পদে ১১টি পদ খালি, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ১২ পদে ৭টি খালি, পরিবার কল্যাণ সহকারির ৪৩ পদে ১২টি খালি।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিথুনুর রহমান বলেন, “সব কেন্দ্রেই জনবল ও ওষুধ সংকট রয়েছে। সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও অচিরেই তা কাটিয়ে ওঠা হবে।”

ইএইচ