মধ্যরাতের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিলেট

সিলেট ব্যুরো প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০২:৫৯ পিএম

ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ শহর সিলেটে ভোরের দিকে হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতের মনিপুর রাজ্যে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেট অঞ্চলে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়ে ৩ দশমিক ৪। তীব্রতা কম হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি টের পাননি।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, মনিপুরে উৎপত্তি হওয়া এই কম্পনটি বাংলাদেশের ভেতরে খুব বেশি অনুভূত হয়নি। তিনি বলেন, “এ ধরনের ছোট ভূমিকম্প প্রায় ঘটেই থাকে। তীব্রতা কম হওয়ায় সাধারণত প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয় না।”

এদিকে প্রায় একই সময় মধ্যরাতে বঙ্গোপসাগরের স্রোতধারা এলাকাজুড়ে আরেকটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব কক্সবাজারের টেকনাফে অনুভূত হয়েছে। রাত ৩টা ২৯ মিনিটে ৪ মাত্রার এ ভূমিকম্পটি টেকনাফ শহর থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার দূরে ঘটে। আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সাইট ভলকানো ডিসকভারি জানায়, ঝাঁকুনি খুবই সামান্য হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ তা বুঝতে পারেননি।

ভলকানো ডিসকভারি উৎপত্তিস্থলের গভীরতা জানাতে না পারলেও ইউরোপিয়ান-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, কম্পনটি ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল।

গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দেশে আঘাত হানা ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষের আহত হওয়ার পর ভূমিকম্প নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ওই ঘটনার পরদিনই তিন দফায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রাজধানী ঢাকাতেও আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং দুর্বল ভবন কাঠামো বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজউকের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ইএইচ