নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলমান বার্ষিক পরীক্ষার অষ্টম ও নবম শ্রেণির দুটি বিষয়ের বহু নির্বাচনী প্রশ্নের উত্তরপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত যাচাই করে অষ্টম শ্রেণির ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। নবম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্র মূল প্রশ্নপত্রের সাথে মিল না থাকায় সেটি বাতিল করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান এবং নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষার বহু নির্বাচনী উত্তরপত্র। নির্ধারিত পরীক্ষার সময় ছিল সকাল ১০টা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলের কোনো শিক্ষকই এমন কাজ করেছেন। এতে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির সুনাম নষ্ট হয়েছে। তদন্ত করে প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিখিত ও বহু নির্বাচনী এই দুটি ভাগে মোট ১০০ নাম্বারে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি নজরে আসায় অষ্টম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্র মূল প্রশ্নপত্রের সাথে প্রায় ৭৫ ভাগ মিল পাওয়া যায়। ফলে ওই প্রশ্ন বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। নবম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্রের সাথে মূল প্রশ্নপত্রের মিল না থাকায় সেটি পরিবর্তন করা হয়নি।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রফিকুজ্জামান ইদ্রিসীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী শিক্ষক রাখাল চন্দ্র কর, রফিকুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম ও হারুন অর রশিদ।
পৌরশহরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, সকালেই তিনি দুটি উত্তরপত্র দেখেছেন। পরে ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। আরও অনেকে এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ব্যাপকভাবে প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে পৌঁছেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে উত্তরপত্র ফাঁস হওয়ার খবর পাই। যাচাই করে অষ্টম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্র মূল প্রশ্নপত্রের সাথে প্রায় ৭৫ ভাগ মিল পাওয়া যায়। দ্রুত প্রশ্ন বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। নবম শ্রেণির ফাঁস হওয়া উত্তরপত্রের সাথে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়নি, তাই এটি বাতিল করা হয়নি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দায়ীদের সনাক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেন পরবর্তীতে কেউ এমন ঘটাতে সাহস না পায়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, “উত্তরপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। প্রধান শিক্ষককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইএইচ