চট্টগ্রামে ডিসেম্বরের শুরুতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ: ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ এলাকা চিহ্নিত

আশিকুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৫:১৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন গড়ে একশ জ্বরের রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। 

সাধারণত বর্ষা পেরোলেই ডেঙ্গু আক্রান্ত কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু এটি ডিসেম্বরেও চলমান রয়েছে এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ না কমা এবং হঠাৎ করে আরও বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন।

গত চার বছরের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ৯৩৫ জন, অক্টোবরে ৯৯০ জন এবং নভেম্বরে ৮৮৩ জন আক্রান্ত হন; অর্থাৎ তিন মাসেই আক্রান্ত ২ হাজার ৩৮৮ জন, যা মোট আক্রান্তের ৬৩ শতাংশের সমান।

আগের বছরের একই সময়ের পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৯০৭ জন, অক্টোবরে ১ হাজার ৪৩০ জন ও নভেম্বরে ১ হাজার ২৮ জন আক্রান্ত হয়; ওই বছর মোট আক্রান্ত ছিল ৪ হাজার ৩২৩ জন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ হাজার ৮৯২ জন, অক্টোবরে ২ হাজার ৭৭৯ জন এবং নভেম্বরে ১ হাজার ২৫৪ জন; ওই বছর মোট আক্রান্ত ছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। ২০২২ সালে সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ছিলেন ৬০১ জন, অক্টোবরে ১ হাজার ৮৬১ জন এবং নভেম্বরে ২ হাজার ৭ জন; ওই বছর মোট আক্রান্ত হয়েছিল ৫ হাজার ৪৪৪ জন।

চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫ জন। ২০২৪ সালে মারা গিয়েছিলেন ৪৫ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে ৪১ জন মারা গিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মশক নিধন কার্যক্রম হিসেবে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম, আবর্জনা পরিষ্কার, এডিস মশা নিধন ও লার্ভা ধ্বংসসহ বিভিন্ন অভিযান চালাচ্ছে; তবু প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ জরিপে নগরের ২৫টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

চিহ্নিত এলাকাগুলো হচ্ছে, বন্দর, কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর, সদরঘাট, বাকলিয়া, বায়েজিদ, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, খুলশী, পাঁচলাইশ, আকবরশাহ, চকবাজার, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, পাথরঘাটা, লালখানবাজার, আন্দরকিল্লা, কাট্টলী, দেওয়ানহাট, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, চন্দনপুরা ও মোহাম্মদপুর।

এর মধ্যে বন্দর, কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর ও সদরঘাটকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের সূত্র জানায়, এসব এলাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, খোলা নালি ও নির্মাণকাজের কারণে পানির প্রসার এবং জমে থাকা জল এডিস মশার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; ফলে ক্র্যাশ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যাপকভাবে চালালেও মশার ঘনত্ব দ্রুত কমছে না।

এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের সতর্কতামূলক পরামর্শ হচ্ছে, যেকোনো ধরনের জ্বর অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মসূচি থাকলেও চিকিৎসকেরা মনে করেন, জনগণকে দ্রুত সচেতন করা, ঢেউয়ের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে তথ্য বিতরণ এবং আবর্জনা-নিবারণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারের মতো কাঠামোগত কাজ দ্রুত না করলে পরিস্থিতি আরও গভীর রূপ নিতে পারে।

ইএইচ