তাঁত বোর্ডের সহযোগিতা শুধু কাগজে-কলমে। প্রকৃত তাঁতীরা বঞ্চিত হলেও ভুয়া তাঁতি সেজে অনেকেই প্রণোদনা ও সহায়তা পায়। স্বচ্ছতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, কোনো বৈষম্য চলবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রান্তিক তাঁতীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে তাঁত শিল্পের উন্নয়নে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির তামাই ক্লাবে তাঁতিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন প্রধান অতিথি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি। তিনি তাঁতিদের কথা শোনেন।
বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আয়োজনে তামাই গ্রামের তামাই ক্লাবের হল রুমে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমদ ছিদ্দীকী, এনডিসি।
এ সময় তাঁত বোর্ডের প্রধান হিসাব রক্ষক সুকুমার শাহা, সিরাজগঞ্জের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক কামরুল ইসলাম, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান, জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান ও বেলকুচি তাঁত বোর্ডের লিয়াজোঁ অফিসার তন্নী খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে তামাই হ্যান্ডলুম অ্যান্ড পাওয়ারলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি হাজী আব্দুল আজিজ সরকার ও তাঁতি আব্দুল গফুর খান বলেন, "দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ কাপড় উৎপাদন হয় একমাত্র তামাই গ্রামে। তবে রং, সুতার দাম সহ সকল উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এ গ্রামের বহু কারখানা বন্ধ হবার পথে।"
তাঁতিরা আরও বলেন, "উচ্চ সুদে লোন নিয়ে অনেক তাঁতিই সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে কম সুদে লোন দিলে এ শিল্প টিকে থাকবে। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ সহ বিভিন্ন সংস্থা দ্বারা হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই সাথে তাঁত শিল্পে গ্যাস সংযোগ সহ পরিবেশ সুরক্ষায় ইটিপি প্ল্যান্ট নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।"
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, "তাঁত শিল্পের উন্নয়নে সকল সহায়তা করা হবে। প্রকৃত তাঁতিরাই বোর্ডের সহায়তা পাবে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষা সহ এ শিল্পে গ্যাস সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ইএইচ