সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে আত্মসমর্পণ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চার কুখ্যাত অপরাধী।
সোমবার নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালায়। অভিযানের সময় অভিযুক্তরা ভেটখালী এলাকা থেকে পালিয়ে গেলেও দিনভর গোয়েন্দা নজরদারি ও যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে তারা বিকেলে কালীগঞ্জ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
আত্মসমর্পণকারী অপরাধীরা হলেন, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে নেদা কয়াল (৩৫), মো. রেজাউল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান ও মো. আব্দুর রহিম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা গত সাত বছর ধরে অস্ত্র ব্যবসা, অবৈধ চোরাচালান, মানবপাচার এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজীব জানান, "গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের ইতোমধ্যে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের মূল হোতা এবং অন্যান্য সদস্যদের তথ্য উদঘাটন করা হবে।"
সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ইএইচ