জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্রোহী হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য মমিনুল ইসলাম ও শান্ত মন্ডলের মরদেহ রোববার পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাদের নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
প্রিয়জন হারানো শোকাতুর পরিবেশে কুড়িগ্রামের এই দুই বীর সন্তানকে শেষ বিদায় জানায় হাজারো মানুষ।
রোববার দুপুরে দুই সেনাসদস্যের মরদেহ সামরিক হেলিকপ্টারে করে উলিপুর উপজেলার হেলিপ্যাডে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
উলিপুর উপজেলার উত্তর পান্ডুল গ্রামে সৈনিক মমিনুল ইসলামের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মমিনুল ইসলাম দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
অন্যদিকে, রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামে বিকেল সাড়ে ৪টায় অপর সেনাসদস্য শান্ত মন্ডলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া শান্ত গত নভেম্বরেই শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে গিয়েছিলেন। মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করা শান্তর স্ত্রী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রিয় হারানো পরিবারের আহাজারিতে ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে এক বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শাহাদাৎ বরণ করেন। শনিবার তাঁদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর রবিবার ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে তাঁদের নিজ নিজ জেলায় পাঠানো হয়।
ইএইচ