প্রশাসনিক দক্ষতায় বদলে যাচ্ছে করিমগঞ্জের চিত্র: নেপথ্যে ইউএনও তাহমিনা

রায়হান জামান, কিশোরগঞ্জ প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম

কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী করিমগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। 

২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে তাহমিনা আক্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবায় দৃশ্যমান গতি সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে করিমগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও সরকারি জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে।

বিশেষ করে পৌর এলাকার কলেজ মোড় সংস্কার করে নান্দনিক রূপ দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ডাম্পিং ফিল্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি ফিরেছে পৌরবাসীর। গত ১৭ বছর ধরে অবহেলিত থাকা বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন সড়ক নির্মাণ ও স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদারকির মাধ্যমে কাজের মান নিশ্চিত করায় সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

এছাড়া মডেল মসজিদের উন্নয়ন, অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো মানবিক কাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ও জেলেদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

স্থানীয় কৃষক আ. জব্বার জানান, আধুনিক সেচ পদ্ধতির সঠিক নির্দেশনায় তাঁদের ফসলের উৎপাদন ও মুনাফা দুই-ই বেড়েছে।

দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, “করিমগঞ্জের মানুষের আন্তরিকতা আমাকে দায়বদ্ধ করে তোলে। ব্যক্তিগত তদবিরের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনিয়ম দূর করাই আমার মূল লক্ষ্য। এই যাত্রায় সবাইকে সবসময় সন্তুষ্ট করা সম্ভব না হলেও আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিক।”

বিগত কয়েক মাসে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও উন্নয়নমুখী ধারার এই পরিবর্তনের ফলে করিমগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

ইএইচ