রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত কমছে, যার ফলে কৃষি উৎপাদন, পানীয় জলের প্রাপ্যতা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবিত জাতীয় পানিনীতি-২০২৫ প্রণয়নকে বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন।
মঙ্গলবার পবা উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক কর্মশালায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) প্রস্তাবিত নীতির উপর গণশুনানি ও তরুণদের মতামত গ্রহণের আয়োজন করে।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করেন ওয়ারপোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।
কর্মশালায় জানানো হয়, রাজশাহী অঞ্চলের অতি উচ্চ পানি সংকট ঘোষিত ২৫টি উপজেলার মধ্যে পবা উপজেলা অন্যতম। ইতোমধ্যে উপজেলার চারটি ইউনিয়নকে অতি উচ্চ পানি সংকট এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু পবা উপজেলা নয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার মোট ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯১১টি মৌজা ও সাড়ে পাঁচ হাজার গ্রাম বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পানি সংকটের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৫০৩টি মৌজাকে অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৮৭ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি পানির সংকটে ভুগছেন।
ওয়ারপোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত কয়েক বছর ধরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিস্তর পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, অপরিকল্পিত সেচব্যবস্থা, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির স্বাভাবিক পুনঃভরাট প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে প্রতিবছর পানিস্তর গড়ে কয়েক ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকাগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক নির্দেশনা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা, সেচে পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিকল্প পানির উৎস তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কর্মশালায় ওয়ারপোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো না গেলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চল বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। জাতীয় পানিনীতি-২০২৫ বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ওয়ারপোর পরিচালক (পরিকল্পনা) নুর আলম এবং পরিচালক (কারিগরি) শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আরাফাত আমান আজিজ।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ারপোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পানি সম্পদ) ড. মো. আমিনুল হক। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (প্রকৌশল) মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান খান ও হামীম আল হুসাইন, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মকবুল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সরকার রাহনুমা আফরোজ, নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী প্রমুখ।
ইএইচ