কনকনে শৈত্যপ্রবাহের শীতে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা প্রচণ্ড কনকনে শীত আর শৈত্যপ্রবাহের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরেই বেরিয়ে পড়ছেন হাওরের বুকে নিজ নিজ ফসলি জমিতে। 

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাড়কাঁপানো শীতে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা।

এই সময়ে হাওরের বুক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় জমিগুলো বোরো ধানের চারা রোপণের উপযোগী হয়ে ওঠে। পানি নামার সাথে সাথেই জমির ওপর কাদা ও পলিমাটির স্তর জমে থাকে। এই স্তর কেবল কাদা নয়, বরং কৃষকের চোখে আগামীর সোনালী স্বপ্ন। 

মোহনগঞ্জ উপজেলায় হাওরের অধিকাংশ জমি বর্ষায় পানির নিচে তলিয়ে থাকে এবং শীতকালে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই কৃষকেরা চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকেরা বীজতলা থেকে বোরো ধানের চারা তুলে নিয়ে কৃষি জমিতে রোপণ করছেন। হাওরের কৃষিতে এখন বেড়েছে যন্ত্রের ব্যবহার। কৃষি খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো চাষাবাদের কাজে গরু, লাঙ্গল, মই ও জোয়ালের প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। আজকাল কৃষকেরা আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন মেশিনের সাহায্যে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত কাজ করছেন। ফলে সময় ও শ্রমের সাশ্রয় হচ্ছে। 

হাওরাঞ্চলে বছরে উৎপাদিত একমাত্র ফসল এই বোরো ধানের গুরুত্ব অপরিসীম। জেলার খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে এই হাওরাঞ্চলের ধান দেশের বিভিন্ন জেলার খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উপজেলার শেওরাতুলী গ্রামের কৃষক তোফায়েলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ডিঙ্গাপুতা হাওরে পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া কৃষি জমিতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বোরো ধান চাষের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত করছেন। এ বছর প্রায় ১০০ কাঠা জমিতে তিনি বোরো ধান চাষ করবেন। ইতিমধ্যে ৮০ কাঠা জমি রোপণ করেছেন এবং বাকিগুলো রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত তিন বছরে বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা স্বস্তিবোধ করছেন। তাঁরা আগাম জাতের ধান রোপণ করছেন যাতে বর্ষার পানি আসার আগেই ফসল ঘরে তুলতে পারেন।

জালালপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান চাষে প্রতিবছরই খরচ বাড়ছে। তেলের দাম বাড়ায় সেচের খরচও বেড়ে গেছে, ফলে বোরো ধান উৎপাদনে অধিক ব্যয় হচ্ছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুশ শাকুর সাদী দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, “চলতি মৌসুমে মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোট বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে শুধু হাওরের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং ইতিমধ্যে হাওরে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি। এতে হাইব্রিড ২ হাজার ১০০ হেক্টর ও উফশী ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। আমরা আগেই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করেছি। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি অফিস থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শসহ নানা সহায়তা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান যে, হাওরে বীজতলা থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত কৃষি অফিস প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে থাকে। হাওরাঞ্চলে যেহেতু আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা থাকে, তাই কৃষকেরা যেন আগাম ফসল ঘরে তুলতে পারেন সেই লক্ষ্যেই সব রকম পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

ইএইচ