ভোলার ৪টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২৪ জন প্রার্থী

ভোলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে দাখিলকৃত মোট ৩১ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সময় ৪টি আসনে দাখিলকৃত ২৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

রোববার দুপুরে যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে ভোলা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

যাচাই-বাছাইকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন,। অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ ও তথ্যগত ভুলের কারণে ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ভোলা-১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আকবর হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হোসেন। ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে; তারা হলেন, মহিবুল্যাহ খোকন ও তাছলিমা বেগম। 

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এক শতাংশ ভোটারের যে সম্মতি দেওয়া হয়েছে সেগুলো সঠিক না পাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তারা চাইলে নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজমুদ্দিন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমাত উল্লাহর মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা স্বাক্ষরিত ভোটারদের তথ্য সঠিক না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ভোলা-০৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে সম্পদ বিবরণীতে আয়কর রিটার্নে গরমিল থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন এবং সমর্থকদের ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

ভোলা-১ আসনের বৈধ প্রার্থী হলেন, ৭ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র গোলাম নবী আলমগীর, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-র আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওবায়দুর রহমান, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. মিজানুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (জুয়েল)।

ভোলা-২ আসনের বৈধ প্রার্থী হলেন, ৭ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মো. হাফিজ ইব্রাহীম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফজলুল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুস সালাম, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু, আমজনতার দলের মো. আলাউদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোকফার উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন খন্দকার।

ভোলা-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী হলেন, ৫ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মুহা. নিজামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোছলেহ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়ব।

ভোলা-৪ আসনের বৈধ প্রার্থী হলেন, ৫ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নুরুল ইসলাম নয়ন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জাপা) মো. মিজানুর রহমান, আমজনতার দলের জামাল উদ্দিন রুমি ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম।

ভোলা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান জানান, যাচাই-বাছাইয়ে ৪টি সংসদীয় আসনের ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষিত হয়েছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পাওয়ার জন্য আপিল করতে পারবেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ইএইচ