কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কয়েক প্রজন্মের সংস্কৃতি ও বিনোদনের প্রতীক এই ঘোড়দৌড় দেখতে বুধবার বিকেলে ২০ হাজারেরও বেশি দর্শকের ঢল নামে। মাঠজুড়ে ছিল মানুষের ভিড়, উল্লাস আর চিরায়ত গ্রামীণ আনন্দের আবহ।
বুধবার বিকেলে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়ায় প্রয়াত আবুল কাশেম (ঘোড়া) স্মরণে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ঘোড়সওয়াররা অংশ নেন।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার হালিমা খাতুনের ঘোড়া ছাড়াও গাইবান্ধা ও রৌমারীসহ বিভিন্ন এলাকার শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত ঘোড়া এই দৌড়ে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ঘোড়ার গতি এবং সওয়ারদের দক্ষতা ও কৌশল উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাসভীর-উল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা বিএনপির সদস্য সাইয়েদ আহমেদ বাবু, উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হায়দার আলী মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান বুলবুল, আব্দুর রশিদ মিলিটারি এবং চিলমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ফজলুল হকসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঘোড়দৌড় গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন খেলাধুলা, যা একসময় কৃষিভিত্তিক সমাজে বিনোদন ও সামাজিক বন্ধনের অন্যতম মাধ্যম ছিল। আধুনিকতার চাপে এই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলার গ্রামীণ সমাজে ঘোড়দৌড়ের ইতিহাস অত্যন্ত পুরোনো। জমিদারি আমল থেকে শুরু করে গ্রামীণ মেলা, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘোড়দৌড় ছিল অন্যতম আকর্ষণ। কৃষিকাজে ঘোড়ার ব্যবহার কমে গেলেও বিনোদন ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতা মানুষের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের চর ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঘোড়দৌড় ছিল সাহস, শক্তি ও কৌশলের প্রতীক। স্থানীয় মানুষ নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন, যা গ্রামীণ ঐক্য ও আনন্দের প্রতিফলন ঘটাত।
দর্শকদের মধ্যে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলেন, মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের বাইরে এসে এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন উপভোগ করা এক ভিন্ন অনুভূতি। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করা হলে ঘোড়দৌড় আবারও গ্রামবাংলার সংস্কৃতিতে প্রাণ ফিরে পাবে।
ইএইচ