কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় কাহিল জনজীবন, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস

সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়ে পড়েছে। 

শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস।

সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় গোটা জনপদ ছেয়ে থাকে। দিনের বেলা এর সাথে যুক্ত হয়েছে মেঘলা আকাশ। এতে দিনেও প্রচুর ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। 

গত কয়েকদিনের এই ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে তারা দেরিতে হলেও কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

শহরের পৌর এলাকার খানপাড়া বাসিন্দা অটোরিকশা চালক দুলাল জানান, “এতই যে ঠান্ডা পড়েছে রাস্তায় সাহস করে রিকশা নিয়ে বের হলাম। কিন্তু ঠান্ডায় রাস্তা ফাঁকা। সকাল ৮টা বাজে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ টাকা কামাই করছি।”

ধরলা ব্রিজ পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা দিনমজুর আব্দুর রহমান জানান, “গত এক সপ্তাহ থাকি কাজে যাইতে দেরি হচ্ছে। দেরিতে গেলে গৃহস্থ কম টাকা দিবার চায়। এদিকে ঠান্ডার জন্য সময়মতো যেতেও পারি না। আজ খুব কনকনে ঠান্ডা হাত শিষ্টি লাগে। তাই কাজে যাই নাই।”

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে কৃষকদের সদ্য বেড়ে ওঠা বোরো খেতের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এখনও তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। অন্যদিকে শীতজনিত রোগে বয়স্ক ও শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ শুক্রবার জেলায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এই মাসে মৃদু বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে এবং আরও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা মজুদ আছে। এছাড়াও মধ্যরাতে শহরের ফুটপাতে অসহায় ও তৃণমূল শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।

ইএইচ