আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীসহ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে উঠে আসছেন তরুণ ভোটাররা।
জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফেনীতে মোট ভোটার ১৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার প্রায় ৬ লাখ। এই বিশাল তরুণ ভোটার যেকোনো নির্বাচনের সকল সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ফেনীতে এবার মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, মহিলা ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারই ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই শ্রেণির মধ্যে কিছু সংখ্যক ভোটার ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করলেও এরপর কার্যত দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন না হওয়ায় ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মোট ভোটার ছিল ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ জন। এবার প্রায় এক লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় জেলায় ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
একাধিক নতুন ভোটারের মতামত এবং নির্বাচন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ এই তরুণ ভোটারের মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট। নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রতি অন্ধ অনুকরণ না করে এই ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশই ভোট দিতে পারে ‘ব্যক্তিকে’। অর্থাৎ তরুণ ভোটাররাই নির্ধারণ করবে কারা আগামীর জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ফেনী সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আসনটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হলেও নতুন ভোটার এবং জুলাই স্পিরিটের কারণে মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন তিনি। তবে সদরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল) দলীয় ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের কারণে জনপদে আলোচিত।
এছাড়া ফেনী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন। ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিপরীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
এদিকে সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক ভূমি হওয়ায় এই জেলার তিনটি আসনে ভোটের মাঠে বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২০০১ সাল থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছে। সেক্ষেত্রে এবার নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি পৃথকভাবে নির্বাচন করাতে তাদের ভোট ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে।
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ অতীতের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। কেননা তরুণ ভোটার যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, তবে যেকোনো দলের জয়-পরাজয় নির্ধারণে তারাই বড় ভূমিকা পালন করবেন।
ইএইচ