নির্বাচনী ডামাডোলে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে এক ভাইরাল ভিডিও। প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার আগেই দলীয় প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে শোকজ করা হয়েছে।
বুধবার সকালে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র সহকারী জজ রূপণ কুমার দাশ এই শোকজ নোটিশ জারি করেন।
ঘটনাটি গত ২ জানুয়ারির। লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ব্যক্তিগত প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাহান চৌধুরী। অনুষ্ঠান চলাকালীন বড়হাতিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত সবার উদ্দেশে শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এই দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করা হয় এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নির্বাচনী মাঠে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই আসনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী এ বিষয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল—তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো বা ভোট চাওয়া সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি-২০০৮ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিচারিক কমিটির নোটিশে শাহজাহান চৌধুরীকে আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সেখানে তাঁকে এবং জসিম উদ্দিনকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নির্বাচনী আইন সবার জন্য সমান এবং প্রতীক বরাদ্দের আগে ভোট চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে শোকজ পাওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত ইউনিয়ন জামায়াত আমির মো. জসিম উদ্দিন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, দাঁড়িয়ে ভোট চাওয়ার বিষয়টি সত্য। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়েছি ঠিকই, তবে এটি যে এই মুহূর্তে আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে তা মাথায় ছিল না। আমরা বিষয়টি নিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং নির্ধারিত সময়ে নোটিশের জবাব দেব।
শাহজাহান চৌধুরী বরাবরই তাঁর আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য আলোচিত। গত বছরের ২৭ নভেম্বর একটি জনসভায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, খবরদার, আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমাকে যারা চিনে না তারা এখনো মাটির নিচে বসবাস করে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আইনি জটিলতায় পড়লেন এই প্রভাবশালী নেতা।
সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে বরাবরই জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে একটি অদৃশ্য লড়াই থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির প্রার্থীর করা এই অভিযোগ জামায়াত শিবিরের জন্য নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই একটি বড় ধাক্কা। এটি যেমন শাহজাহান চৌধুরীর ইমেজ সংকটে ফেলবে, তেমনি নির্বাচন কমিশন যে কঠোর অবস্থানে আছে তাও স্পষ্ট হলো।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাতে নারাজ। শাহজাহান চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ কীভাবে এই ধরণের আচরণবিধি ভঙ্গের দায় এড়িয়ে যাবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আগামী সোমবারের শুনানিতে তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তাঁর প্রার্থিতা নিয়েও সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এএন