লালমনিরহাটে তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। প্রচণ্ড ঠান্ডার প্রভাবে মাটিতে বুনা বোরো ধানের বীজতলাগুলো সাদা ও হলুদ বর্ণের হয়ে পচে যাচ্ছে। এতে বোরো মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষকরা।
বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে সাধারণ চাষীরা। প্রতিটি বীজতলায় এমন পচন ধরলেও কৃষি বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষীদের।
চলতি বোরো মৌসুমে লালমনিরহাট জেলায় প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্তমানে ৯১০ হেক্টর উফশী ও ১ হাজার ২৯৬ হেক্টর হাইব্রিড জাতের ধানের চারা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তবে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক জায়গায় ধানের চারা সাদা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদনের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন কৃষক। নতুন করে বীজতলা বুনতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি চাষাবাদ করতে দেরি হবে। তীব্র শীতে ক্রমেই বীজতলাগুলোর অবনতি ঘটলেও পাচ্ছেন না সঠিক পরামর্শ ও ধানের চারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন কৃষকরা।
এ দিকে তীব্র শীতে ধানের বীজতলার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য শীতকালীন ফসল। আলু নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছে চাষীরা। লেট ব্লাইট নামক রোগের শঙ্কায় আগাম কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মতিউল আলম জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে ও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বোরো ধানের বীজতলা স্বাভাবিক রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তীব্র শীতে আলুতে লেট ব্লাইট বা নাভীধশা রোগ হতে পারে তাই বিভিন্ন ছত্রাকনাশক কীটনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সঠিক সময়ে কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শের পাশাপাশি সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণের দাবি প্রান্তিক চাষীদের।
ইএইচ