চার দিকে ‘ধান নদী খাল, এই নিয়ে বরিশাল’। এই প্রাচীন জনপদের মাটিতে আগে একফসলি জমি হিসেবে কৃষকরা ব্যবহার করতো। এখানে কৃষকরা বেশির ভাগই ধান চাষ করতেন। আর সেই একফসলি জমিতে কৃষকরা ঝুঁকছেন সরিষা চাষে।
পরিত্যক্ত একফসলির জমিতে এখন মৌ মৌ গন্ধে আর হলুদ ফুলের নান্দনিকতায় পুরো গ্রাম এখন প্রকৃতির এক অপূর্ব রূপে নিয়েছে। এই চিত্রটি দূরে কোথাও নয়, এটি বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদের নদীর তীর প্রান্তে তাকালেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত।
দিগন্তজোড়া হলুদ ফুলের সমাহার যেন এক প্রাকৃতিক গালিচা। সরিষার ফুলে ফুলে ভরে ওঠা মাঠ দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে আমনের চাষের পর জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত। তিন বছর ধরে সেই একফসলি জমিতে সরিষা চাষের আওতায় এনে তারা স্বল্প পরিশ্রম ও কম খরচে ভালো ফলন পাচ্ছেন। এতে একদিকে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তার অনুপ্রেরণা এবং দিকনির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ের নিয়মিত পরামর্শে কৃষকরা সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে দিন দিন। সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষা আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। গতবছরের চেয়ে এবছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের সরিষা বীজ এবং সার বিনা মূল্যে সহ সব ধরনের সহযোগীতা করছেন তারা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকের ফসলের ক্ষেতে হিমেল হাওয়ায় মাঝে মধ্যেই দোল খাচ্ছে সরিষার ফুল। ফুলে ফুলে ভরে গেছে উপজেলা সহ গোটা জেলার প্রতিটি সরিষার ক্ষেত। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করে সরিষা ফুলের সাথে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমীরা। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেতেই সরিষার বীজ আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সরিষা চাষে ভাল ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ফলে কম খরচে অধিক লাভের আশায় কৃষকের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে খন্ড খন্ড জমিতে সরিষার হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য মাঠে-প্রান্তরে শোভা পাচ্ছে।
কৃষক দম্পতি বলেন, একফসলির জমিকে দুই ফসলের রূপান্তরিত করে কম খরচে সরিষা চাষের তারা লাভমান হচ্ছে। এবছরও তাদের ফলন ভালো হবে বলে আশা তাদের। তাদের ফলন দেখে অনেকেই আগ্রহ জেগেছে। তারা বলেন, আমাদের কৃষি অফিসের উপ-সহকারী হেলাল ভাই সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ ও বীজ-সার সহ সকল সহযোগীতা করেছেন। নিয়মিত তিনি ক্ষেতের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন দিন দিন সরিষার চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। আশা করা যায় এবার কৃষকদের ফলন ভালো হবে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
বরিশাল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সদর উপজেলায় আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৬০৮ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৬১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে কৃষকদের।
বরিশাল সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. রাসেল মনির, বরিশাল সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ে পড়ে থাকা একফসলির জমিকে দুই ফসলের রূপান্তরিত করছেন কৃষকরা। বেশি ধুকছেন সরিষা চাষের দিকে। আগামীতে কৃষকরা সরকারী ভাবে সুযোগ সুবিধা বেশি পেলে সরিষা চাষ আরো বৃদ্ধি হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
জেএইচআর