ছুটির দিনে কেনাকাটার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
শনিবার ছুটির দিনে এমন চিত্রই দেখা গেছে পূর্বাচলে আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। সারাদিন মেলা ঘুরে ক্লান্ত দর্শনার্থীরা বিশ্রামের জন্য ভিড় করছেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নের সামনের অংশে। সেখানে বসে অনেকে স্মৃতিচারণে মগ্ন হচ্ছেন, কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আশিক বলেন, মেলায় এসে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দাঁড়ালে নিজের অজান্তেই আবেগ চলে আসে। এক সময় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি, চোখে পানি চলে আসে।
তিনি আরও বলেন, পূর্বাচলে মেলার আয়োজন রাজধানীর বাইরে হলেও জায়গাটি অত্যন্ত সুন্দর। কয়েক বছর পর এখানকার পরিবেশ আরও মনোরম হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।
নতুন প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেলায় এলে প্রত্যেকেরই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নে অন্তত একবার আসা উচিত। নতুন প্রজন্মকে জুলাই বিপ্লব ও আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ কার্যক্রম উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
এদিকে মেলার সার্বিক বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ইপিবি সচিব তরফদার সোহেল রহমান জানান, মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে এবং ছুটির দিনগুলোতে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। বড়দের জন্য প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের বাণিজ্য মেলায় অনলাইন টিকিটিংসহ বেশ কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। প্রবেশ গেইটে কোনো ভিড় নেই, দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন।
পাশাপাশি তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আহতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনা টিকিটে মেলায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন।
এবারের মেলা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে, যা মেলার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করছে। ছুটির দিনে কেনাকাটার পাশাপাশি ইতিহাস ও স্মৃতির আবেশে মেতে উঠছেন দর্শনার্থীরা, এমন চিত্রই যেন এবারের বাণিজ্য মেলার এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
ইএইচ