সাভারে বেড়েছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি

আলী রেজা রাজু, সাভার (ঢাকা) প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে অস্ত্রের ব্যবহার আর লুকোনো কোনো বিষয় নয়। ঝুট ব্যবসা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকে ঘিরে গত বছর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত একের পর এক গুলি, ফাঁকা গুলি এবং ধারাবাহিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে এখানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এখন নিয়মিত বাস্তবতা।

সাম্প্রতিক তিন দিনের ঘটনা সাভারের আশুলিয়ায় অস্ত্রনির্ভর আধিপত্যের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। 

মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো. আলামিন ওরফে কালুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকা উদ্ধার করে। অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হয়। 

এর আগে ২৬ জানুয়ারি আশুলিয়ার ছয়তলা এলাকায় ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরদিন জামগড়া এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে তাণ্ডব চালিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

গত বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলেছে। আমিনবাজার সালেহপুর ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অস্ত্রসহ টুটুল নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিরাবো এলাকায় ঝুট ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার ও গুলি ছোড়ার ঘটনায় জিয়া দেওয়ানকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিংয়ে শামীম শেখ ওরফে মুন্নার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। 

গাজীরচট ও কান্দাইল এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিদেশি পিস্তল, কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্রসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সাভার, হেমায়েতপুর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক অভিযানে অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী আটক হন।

চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডেও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি উদ্বেগজনক। হেমায়েতপুরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ী রমজান আলীকে তুলে নিয়ে গুলির ঘটনায় সন্ত্রাসী মোশারফ ওরফে মুশাকে গ্রেপ্তার করা হলেও অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সূত্র জানায়, মুশার বাহিনী এলাকায় আধিপত্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একাধিক অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার রয়েছে। 

গত বছরের মে মাসে সাভারে সাবেক এমপির বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় পেইন্টিং মিস্ত্রি শাহিনকে। এসব ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি, যা পুনর্ব্যবহারের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ২০২৪ সালের আগস্টের পর সাভার থানা থেকে লুট হওয়া অন্তত ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন ও ব্যবহার উদ্বিগ্ন হারে বাড়ছে।

আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকা জিরাবো, জামগড়া, আমিনবাজার, গাজীরচট এর উদাহরণগুলো একত্রে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এখানে অস্ত্রের প্রবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সক্রিয় ও সংগঠিত চক্র, যেখানে অস্ত্র উদ্ধার হলেও উৎস ও যোগানদাতা এখনো আড়ালে রয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন, “গুলি, উদ্ধার ও আতঙ্কের এ চক্র কবে ভাঙবে?”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, নির্বাচনী সময়ে কেউ আইনশৃঙ্খলা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।

ইএইচ