দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় কমছে চালের দাম

দিনাজপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

দিনাজপুর সদরসহ ১৩টি উপজেলায় চালের দাম কমেছে। দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। 

২১ জানুয়ারি ডিপি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের দুটি চালবোঝাই ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। আমদানি শুরুর পর হিলিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৩-৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

গত বুধবার হিলির চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্বর্ণা জাতের চাল আগে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু চাল ৭৩ থেকে কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে শম্পা কাটারি জাতের চালের দাম। এ চাল আগে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা এক ভ্যানচালক বলেন, ‘সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় চালের দাম কিছুটা কমেছে। গত কয়েক দিন আগেও ৪৬ টাকার নিচে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন ৪৩ টাকায় পাচ্ছি।’

আরেক ক্রেতা বলেন, চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক বলেন, ‘সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছিল। আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে চালের সরবরাহ অনেকটা বেড়েছে। এতে মোকামে সব ধরনের চালের দাম কমতে শুরু করেছে। আমরা এখন কম দামে কিনতে পারছি। 

এ কারণে কম দামে বিক্রিও করতে পারছি। এ ছাড়া সরকার ওএমএসের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করেছে। এতে বাজারে চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।’

এক চাল আমদানিকারক জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে ১৮ জানুয়ারি ২৩২ জন আমদানিকারককে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। ২১ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। এবারে চাল আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। 

এতে করে ধীরে ধীরে আমদানির পরিমাণ বাড়বে। দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা, সেটি কেটে যাবে। এরই মধ্যে চালের দাম অনেকটা কমে এসেছে। আমদানি বাড়লে দাম আরও কমবে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে অনুমতি না থাকায় আমদানি বন্ধ ছিল। 

সরকার অনুমতি দেওয়ায় ২১ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। চাল আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় চালের দাম কমতে শুরু করেছে।

ইএইচ