‘রাজার ছেলে রাজা হওয়ার সংস্কৃতি আর চলবে না’: ফেনীর জনসভায় জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

ফেনী প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

ফেনী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে আজ এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক আবহের সৃষ্টি হয়েছিল। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা লাভের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলাদেশে জেঁকে বসেছে, তা পরিবর্তনের সময় এসেছে। 

তিনি বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, এ ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই। আমরা এমন এক ব্যবস্থা চাই যেখানে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক পরিবেশের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি আমাদের উপহার দিয়েছে কেবল ফ্যাসিবাদ, একনায়কতন্ত্র আর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গ্লানি। আমরা সেই পুরনো সংস্কৃতিকে লাল কার্ড দেখাতে চাই। 

তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের কাছে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, সবাই সমান নাগরিক এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করতে তার দল বদ্ধপরিকর।

দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে যে মারমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির রসিকতা ও সতর্কতার মিশেলে বলেন, এখন শীতের দিন, তাতেই অনেকের মাথা গরম। শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। 

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, তাদের ত্যাগের সম্মান রক্ষার্থে হলেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।

নির্বাচনী ময়দানে নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু জায়গায় মা বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। নিজেদের ঘরের মা বোনদের মতো যদি অন্য নারীদেরও সম্মান করতে পারেন, তবেই প্রকৃত রাজনীতি করা সম্ভব। বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীক তুলে দেন। 

তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। এ মার্কার পক্ষে পুরো দেশ চষে ফেলতে হবে, কোনো মানুষ যেন ভোট দেওয়া থেকে বাদ না পড়ে।

সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন। মঞ্জু বলেন, জনগণকে ফ্যামিলি কার্ড না দিয়ে বরং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা দিন। 

অন্যদিকে রাশেদ প্রধান দাবি করেন, বিএনপি এখন একটি চাঁদাবাজের দলে পরিণত হয়েছে এবং শহীদ জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জোটের পুরনো সঙ্গীরা সবাই বিএনপি ত্যাগ করেছে।

এদিন সকাল থেকেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল ফেনীর জনসভাস্থল। ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে উঠে প্রথমেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে এ টি এম মাসুম বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোটের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান।

ইএইচ