ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মাগুরা-২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ সামনে এসেছে।
মাগুরা-২ আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ বাকের এবং ইসলামী আন্দোলনের মোস্তফা কামাল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৪৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়কে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে একটি বড় বহর চলাচল করছে। বহরে অংশ নেওয়া অনেকের মাথায় দলীয় রঙের ক্যাপ ও গলায় ব্যাজ দেখা গেছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেলে একাধিক আরোহী ছিলেন এবং উচ্চশব্দে স্লোগান দিতে দেখা যায় কয়েকজনকে।
ছবির এসব দৃশ্যকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয় কয়েকজন ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকেরা।
তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী শোডাউন, বহর কিংবা জনভোগান্তি সৃষ্টি করে এমন প্রচার নিষিদ্ধ থাকলেও মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সরু গ্রামীণ সড়কে একসাথে বহু মোটরসাইকেল চলাচলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এ বিষয়ে নিতাই রায় চৌধুরীর সমর্থকেরা জানান, কোথাও যদি আচরণবিধি ভঙ্গ হয়ে থাকে, সেটি ইচ্ছাকৃত নয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। তারা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’