নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান ‘আশুরা বিল’ এখন ভূমিদস্যুদের দখলে

অলিউর রহমান মিরাজ, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান বর্তমানে ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ‘পঞ্চবটীর বন’ নামে পরিচিত এই উদ্যানটি নবাবগঞ্জ বনবিটের জগন্নাথপুর, হরিল্যাখুর, বড় জালালপুর, আলোকধুতি, তর্পনঘাট, রসুলপুর ও খটখটিয়া কৃষ্টপুর মৌজা নিয়ে গঠিত।

২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এলাকাটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর আয়তন ৫১৭ দশমিক ৬১ হেক্টর বা প্রায় ১ হাজার ২৭৮ দশমিক ৫০ একর। উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আশুরা বিল, যার তিন দিক ঘিরে রয়েছে শালবন। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শালবনের অংশ হিসেবে পরিচিত।

এই বনে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সীতারকোর্ট বিহার, যা ঘিরে প্রচলিত আছে ‘সীতার বনবাস’-এর কিংবদন্তি।

জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে আশুরা বিলে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, যাতায়াত সড়ক তৈরি, মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং পানি ধারণের জন্য ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হয়।

তবে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে বিলে অবৈধভাবে ধানচাষে জড়িত দখলদাররা। অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্মিত ক্রসড্যামের বাঁধ ভেঙে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছে, যাতে তাদের চাষাবাদ অব্যাহত রাখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যারা বর্তমানে আশুরা বিলে ধান চাষ করছেন, তাদের ওই জমিতে কোনো ধরনের বৈধ মালিকানা বা স্বত্বাধিকার নেই। অবৈধ দখল ধরে রাখতেই তারা বিভিন্ন কৌশলে উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছে।

তারা আরও বলেন, জাতীয় উদ্যান ও আশুরা বিলের সুষ্ঠু উন্নয়ন নবাবগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। দখলদারদের কারণে এই ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

এএন