নির্বাচনী মাঠে যেখানে ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার আর বিশাল কর্মীবাহিনীর দাপট—সেই চেনা দৃশ্যপট ভেঙে ব্যতিক্রমী প্রচারণায় নেমেছেন গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি।
তার নেই কোনো শোডাউন, নেই রঙিন পোস্টার কিংবা মাইকিংয়ের বহর। একমাত্র সম্বল একটি সাইকেল আর একটি হ্যান্ডমাইক। এ নিয়েই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি ছুটে চলছেন গ্রাম থেকে গ্রামে।
সাইকেলের প্যাডেলে পা, এক হাতে হ্যান্ডেল আর অন্য হাতে হ্যান্ডমাইক যেখানেই মানুষের জটলা দেখছেন, সেখানেই থেমে নিজের কথা বলছেন, ভোট চাইছেন। সাদামাটা এ প্রচারণাই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আজিজার রহমান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বক্স গ্রামের বাসিন্দা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ‘ঢেঁকি’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীদের মতো তার বিশাল কর্মীবাহিনী বা বড় বাজেট নেই। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে তিনি নিজের ওপরই ভরসা রাখছেন।
আজিজার রহমান বলেন, “আমার টাকা-পয়সা নেই, কর্মীও নেই। তাই নিজেই সাইকেল চালিয়ে প্রতীকের প্রচারণা চালাই। এতে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে পারছি। মানুষের সাড়া আর ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
হলফনামা অনুযায়ী, ৫৭ বছর বয়সী আজিজার রহমান পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি ১৯৯১ সালে সাদুল্লাপুরের দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ দ্বিমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং বর্তমানে সেখানেই কর্মরত। তিনি দুই উপজেলার ৩২৯টি গ্রাম প্রতিনিয়ত ঘুরছেন এবং প্রতিটি গ্রামের নাম তার মুখস্থ।
রাজনীতিতে আজিজার রহমান নতুন নন। এর আগে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন। সব ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে এবার তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে এবার মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৮ জন এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়ে আজিজার রহমানের এ ব্যতিক্রমী প্রচারণা ভোটের রাজনীতিতে এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
ইএইচ