বহু নির্বাচনের সাক্ষী নুরজাহান বেগম এবারও স্বাভাবিক বিশ্বাস নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন। কিন্তু ভোটদান কক্ষে প্রবেশের পর পোলিং কর্মকর্তার কথা শুনে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। কর্তব্যরত কর্মকর্তা তাঁকে জানান যে তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
ভোট দিতে না পেরে কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধা। বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এত বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি, কোনো সমস্যা হয়নি। এবার বলে আমার ভোট আরেকজনে দিয়েছে। আমি তো নিজেই দিতে এসেছিলাম। এই ঘটনার পর কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। জহুরুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অনেক ভোটার আসার আগেই তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। রহিমা খাতুন নামের আরেক ভোটার একে নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান যে পোলিং এজেন্টরা ভোটার শনাক্ত করতে না পারার কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক জানান যে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর কেন্দ্রে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জেএইচআর