টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।
শনিবার মহান শহীদ দিবসে কর্মসূচির মধ্যে ছিল দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ভোরে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন এবং কালোব্যাজ ধারণ। এছাড়া চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতাবৃত্তি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিনভর এসব কর্মসূচি পালন করে। প্রথম প্রহরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারের পক্ষে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন।
এরপর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, টাঙ্গাইল প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এদিন ভোরে বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে প্রভাতফেরি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত ও সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্না এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার দিনভর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়। এর আগে শুক্রবার ত্রিবেণী টাঙ্গাইলের উদ্যোগে সকাল থেকে শহরের সড়ক, সড়কদ্বীপ এবং শহীদ মিনারে আল্পনা আঁকা হয়।
অন্যদিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষে ক্যাম্পাসস্থ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনও শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।