পরকীয়ার কারণে তালাক দেওয়ায় প্রবাসীর বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা স্ত্রীর 

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
অভিযুক্ত প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন আক্তার ও পরকীয়া প্রেমিক এনজিও কর্মী জামাল

স্ত্রী ও তিন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় পরিবার ও দেশ ছেড়ে প্রায় সাত বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন মিয়া। দীর্ঘ সময় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠাতেন তিনি। ওই অর্থেই চলত সংসার, সন্তানদের লেখাপড়া এবং নির্মাণ করা হয় বসতবাড়ি। কিন্তু এত পরিশ্রম করেও পরিবারের সুখ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর হুমায়ুন মিয়ার ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠাতে একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়। কিস্তি আদায়ের সুবাদে ওই এনজিওর এক কর্মীর নিয়মিত যাতায়াত ছিল হুমায়ুন মিয়ার বাড়িতে। 

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার স্ত্রীর সঙ্গে ওই এনজিও কর্মীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দাম্পত্য জীবনে তীব্র কলহ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে প্রায় ১৮ বছরের সংসার ভেঙে আইনগতভাবে তালাক সম্পন্ন হয়।

প্রবাসী হুমায়ুন মিয়ার অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যেই তার দীর্ঘ সাত বছরের কষ্টার্জিত উপার্জনের অর্থ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। বর্তমানে তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে রয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তালাকের পরও সাবেক স্ত্রী ও তার সহযোগীরা তাদের বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এতে বৃদ্ধ মা মোছাঃ মমতা বেগমসহ পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শারমিন আক্তার গণমাধ্যমে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাকে আমার শাশুড়ি মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”

স্থানীয় শালিশকারকরা জানান, বিষয়টি একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বর্তমানে উভয়পক্ষই আইনের আশ্রয় নিয়েছে।

এনজিও কর্মী জামাল বলেন, শারমিন আক্তার আমার সমিতির সদস্য ছিল। এই সুবাদে একটু যোগাযোগ হতো। তাছাড়া আর কোনো সম্পর্ক নাই। এসব মিথ্যা কথা। আমি বদলি হয়ে এখন হবিগঞ্জে আছি। একসাথে দুজনের ছবিকে তিনি ইডিট করা ছবি বলে জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও এসএসএস-এর নোয়াগাঁও শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মী জামাল মিয়াকে বদলি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হুমায়ুন মিয়ার মা মোছাঃ মমতা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজয়নগর থানার সেকেন্ড অফিস এসআই নাফিজ জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এএন