রাজশাহীতে প্রথমবার মাদক টাকার অনুসন্ধানে মানি লন্ডারিং মামলা

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

রাজশাহীতে প্রথমবারের মতো মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনাকে মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলার তথ্যে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন বাদী হয়ে গত ২৮ জানুয়ারি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। এতে গোদাগাড়ী উপজেলার সহড়াগাছী গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ (৬০) ও তার স্ত্রী মোসা. সায়েরা বেগম (৫৬)-কে আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তদের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্যে এর দাম প্রায় তিন কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একই জেলার আরেকটি ঘটনায় জেলা উপপরিচালক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পৃথক একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গোদাগাড়ী থানার মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. তারেক হোসেন (৩৬)-এর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৮০৬ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ জমি ক্রয়, বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করছিলেন। গোপন নজরদারি, আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়ায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময়ের অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর রাজশাহীতে প্রথমবার মানি লন্ডারিং মামলা করা সম্ভব হয়েছে। এটি মাদকবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আরও কয়েকটি মামলা প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলো দায়ের করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসা করে বা মাদকের অর্থ ব্যবহার করে কেউ পার পেয়ে যাবে এমন ধারণার আর কোনো ভিত্তি নেই। মাদকের টাকায় অর্জিত সম্পদের প্রমাণ মিললে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের উদ্যোগ মাদক ও অপরাধের নেটওয়ার্ক ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেএইচআর