বগুড়ার শেরপুরে আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খোট্টাপাড়া গ্রামে দিন-রাত পুকুর খনন করায় এবং ডাম্প ট্রাকে মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলা পরিষদ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে খোট্টাপাড়া গ্রামে গত দুই মাস ধরে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে পুকুর খনন চলছে। ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে সাধুবাড়ি থেকে ঘোলাগাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পাকা সড়কের পিচ-পাথর উঠে গেছে। এলজিইডি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে অন্তত পৌনে দুই কোটি টাকা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত ট্রাক চলাচলের শব্দ ও ধুলোয় সাধারণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাটির চাপে একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে স্থানীয় এক যুবক জানান।
অভিযুক্ত মৎস্যচাষি মো. মাসুদ দাবি করেন, তিনি নিজের জমিতে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করছেন এবং প্রশাসন তাঁকে কোনো বাধা দেয়নি। তবে মির্জাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা স্বপ্না পারভিন জানান, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে অভিযান চালিয়ে দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছিল। নতুন করে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ জানান, আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমোদনহীন এই কাজের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
জেএইচআর