লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙন তীব্র হয়ে ফসলি জমি, বসতভিটা ও সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, কালমাটি, বাগডোরা এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও চন্ডীমারী এলাকা ছাড়াও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারি ইউনিয়নের নোহালী চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের বানিয়াটারি এলাকার বাসিন্দা নবেজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীতে বালুমহাল হিসেবে ইজারা না দিয়েও নদীর তীরবর্তী নোহালী চর এলাকায় ফসলি জমি কেটে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার একর জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি নদী থেকে কয়েকশ গজ দূরে অবস্থিত সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
নোহালী চরের বাসিন্দা আমিনুল হক জানান, নদীভাঙনের কারণে তার তিনবার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তিনি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছেন। কিন্তু অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারণে প্রকল্পের ঘরও ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহল ড্রেজার দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু ও মাটি কেটে নিচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ফসলি জমি ও বসতবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারের কাছে দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং তিস্তা তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি জোরদার না হলে নদীভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এএন